ঈদের শেষ পর্বের স্মৃতিকথা

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ১৭:৩৪

তানভীর আহাম্মেদ

 

এ ঈদের শেষ দিকটার স্মৃতি আমার আজীবন মনে থাকবে। খুব জটিল স্মৃতি—কামলা খাটার স্মৃতি। শেষ দিকের সেই স্মৃতির শিরোনাম এভাবেই ডায়েরিতে লিখে রেখেছি। 

ঈদ শেষ। তাই এবার ঢাকায় ফেরার পালা। অনেক কষ্টে বাসে সিট পেয়েছি। পাশের সিট যদিও প্রথমে কাউকে পাইনি, তবে কিছুক্ষণ পর এক সুন্দরী রমণী ওই সিট দখল নেয়।  অনেক দিনের সাধ ছিল, রমণীর পাশে বসে ঢাকায় যাব। যাক, সেই আশা আজ পূর্ণ হলো। তাই মনের মধ্যে উথাল-পাথাল ঢেউ খেলছিল।

রমণীর সঙ্গে দুটো ব্যাগ। দেখে মনে হচ্ছে ওজন কম না। ব্যাগ নিয়ে বসতেও বেশ হিমশিম খাচ্ছিল। পাশের রমণীটা এত সুন্দরী, সে এত কষ্ট করবে আমি থাকতে! সহ্য হচ্ছে না।

তাই নিজ থেকেই বললাম, ‘দেন, আমার কাছে একটি ব্যাগ দেন।’

—না থাক! ধন্যবাদ।

—আরে দেন তো!

মেয়েটির পরের বার ঠিকই ব্যাগটি আমার কোলে দিয়ে দিল।

—তা বক্সে দেননি কেন?

—বক্সে জায়গা নাই নাকি!

—ওহ আচ্ছা, যা ভিড় আজকে। ঢাকায় ফিরছেন বুঝি!

—হ্যাঁ।

এরপর টুকটাক অনেক কথাই হলো। মেয়েটির নামও জানা হলো। টিনা। চেহারা যেমন সুন্দর, নামও সুন্দর।

একসময় আমার মোবাইল নম্বরটি তাকে দিলাম। ঢাকায় কোন প্রবলেম হলে আমাকে কল দিতে বললাম। সারা রাস্তায় অনেক গল্প করেছি দুজন। তখন আমার মনে বড় বড় ঢেউ খেলছে, ‘আমি পাইলাম ইহারে পাইলাম!’

তবে হ্যাঁ, বিপত্তি হলো শেষের দিকে।

বড় ঢেউয়ে যেমন নদীর পাড় ভাঙে, ঠিক তেমনি একসময় আমার মন ভাঙল।

বাস থেকে দুজন একসঙ্গে নেমেছি। তার দুই ব্যাগও আমি বহন করছি।

কিন্তু নেমে দেখি অন্য কাহিনি। মেয়ে তো ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরেনি, ঢাকায় এসেছে প্রেমিকের সঙ্গে ভাগতে। বাস থেকে নেমেই দেখি প্রেমিক দাঁড়িয়ে। মেয়েটি আমার সঙ্গে তার পরিচয় করে দিল। আমার তখন রাগে রক্ত-মাংসে অন্যরকম অনুভূতি। সহ্য হচ্ছিল না। তারা তাদের বিয়ের সাক্ষী দিতে অনেক জোরাজুরি করলেও যাইনি, অফিসের নাম করে চলে এসেছি। আর যেতে যেতে ভেবেছি, কার জন্য এত খাটুনি খাটলাম। শুধু যে ব্যাগ বহন করেছি তা না, পথে খাবারদাবারও কিনে দিয়েছি নিজের টাকায়।

আমার ঈদের স্মৃতি এখানেই শেষ নয়। বাসে যে নম্বর দিয়েছিলাম, তাও আমার কাল হয়েছিল। মেয়েটি প্রায় আমাকে ফোন দিত। বলত, তার পরিবার তাদের লোকেশন জানতে পেরেছে। নজরদারিতে রেখেছে। এরমধ্যে তারা বিয়েও করেছে। তাই বাজারসদাই করে যদি বাসায় দিয়ে আসি, তাদের অনেক উপকার হয়। তারা নাকি বাসা থেকে বের হতে পারে না। তাই দুদিন তাদের বাজারও করে দিয়ে আসতে হয়েছে।

এরপর অবশ্য নম্বর ব্লক করে দিয়েছি। অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলেও ধরছি না।

তবে ফোন ইগনোর করলে কী হবে, মনে মনে একটা ভাবনা, কিছুতেই ব্লক মারতে পারছি না।

‘মেয়ে মানুষ এত জটিল কিভাবে হয়!’