শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২২, ১৯:১১

সুনামগঞ্জ জেলার দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের উপজেলা সম্মেলনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। সোমবার (১৪ নভেম্বর) উপজেলার বিএডিসি মাঠে আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু হয়। 

সম্মেলন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিতর্কে জড়ান দুই পক্ষের সমর্থকরা। এক পর্যায়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন তারা। এমনকি মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল ছুঁড়তে শুরু করেন বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। 

সম্মেলন মঞ্চে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন এবং জেলার সভাপতি-সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশের উন্নয়ন হয়নি। তারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তারেক রহমান বিদেশে বসে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। সোমবার (১৪ নভেম্বর) সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয়, আওয়ামীলীগের উন্নয়ন বিএনপির সহ্য হচ্ছেনা। তাই তারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।

সম্মেলনকে ঘিরে সোমবার সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে বিএডিসি মাঠে উপস্থিত হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি নুরুল ইসলাম নাহিদ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সমাবেশ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, আগামীতে শেখ হাসিনা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন। ষড়যন্ত্র আর হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে আটকে রাখা যাবে না। কারণ শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে সারা দেশের নয়নের মনি।
 
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুল সামাদ আজাদ ডন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্ত, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শামীমা শাহরিয়া।

সম্মেলনকে ঘিরে সারাদিনই ছিলো উত্তেজনা। নেতা-কর্মীরা মঞ্চে উঠার ৫ মিনিট পর আওয়ামী লীগের একাংশ দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মঞ্চে উঠতে না পেরে মঞ্চের দিকে ইটপাটকেল মারতে থাকেন।

মঞ্চে প্রায় আধঘণ্টাব্যাপী ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে দিরাই আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সুহেল আহমদ ও আরেক অংশের আওয়ামী লীগ নেতা মোশাররফ হোসেনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে সম্মেলনে অংশ নেওয়া ২০ জন আহত হন।
 
সংঘর্ষের বিষয়ে মাঠে দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

ইত্তেফাক/পিও