চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে শি জিনপিং এর নিয়োগ বৈশ্বিক রাজনীতিতে বেইজিংয়ের জবরদস্তিমূলক নীতি অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ এই ধরনের নীতিগুলোই শি'র বৈশ্বিক এজেন্ডার মূলে রয়েছে। এক প্রতিবেদনে জিও পলিটিকা রিপোর্ট বলেছে, এটি থেকে নির্ধারণ করা যেতে পারে যে চীন সামরিক ও অর্থনৈতিক জবরদস্তির অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে যদিও কোভিড-১৯ এর ফলে চীনের সঙ্গে অন্যান্য দেশগুলোর রাজনৈতিক ও প্রচলিত সহযোগিতার মাধ্যমগুলোকে ব্যাহত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, 'চীনা জবরদস্তিমূলক নীতি'-এর তীব্রতা ও প্রসার বাড়িয়েছে। তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চীন সাগর এবং পূর্ব চীন সাগরের দেশগুলোকে 'চীনের জঘন্য আচরণের শিকার' বলে অভিহিত করা হয়েছে। শি'র আমলে চীনের 'জবরদস্তিমূলক নীতি' অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, কিছু ইউরোপীয় দেশ এবং পাকিস্তান পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।
দুই বছর আগে, অস্ট্রেলিয়া এবং চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত ছিল এবং অস্ট্রেলিয়াকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনের কাছাকাছি হিসেবে দেখা যাচ্ছিলো। কোভিড -১৯ এর উৎস সম্পর্কে তদন্তের জন্য অস্ট্রেলিয়া চীনা অর্থনৈতিক জবরদস্তির সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে উঠে। যদিও অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হয়েছে। তবে চীন তার জবরদস্তিমূলক নীতি অব্যাহত রেখেছে।
ইন্টারন্যাশনাল পলিসি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক লোই ইনস্টিটিউট বলেছে, অদূর ভবিষ্যতে আধিপত্য বাড়বে কারণ চীনের অর্থনীতিতে কম সম্পদের তীব্রতা বাড়বে।
এটিকে একটি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন অস্ট্রেলিয়ান পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং লৌহ আকরিক ব্যবহার বন্ধ করে তার সরবরাহে বৈচিত্র্য এনেছে।
জিও পলিটিকা রিপোর্ট অনুসারে, চীন প্রকৃতিতে প্রাপ্ত দুঃষ্প্রাপ্য ধাতু ব্যবহার করে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে। এটি চীনের তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে বিশাল একটি অস্ত্র। বেইজিং জাপানে তার সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
চীন এই দুষ্প্রাপ্য ধাতুগুলোর ৩০ ধারণ করে এবং বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮৮ শতাংশ এটা থেকে সরবরাহ করা হয়। এই দুঃষ্প্রাপ্য ধাতুগুলো আধুনিক শিল্পে ব্যবহার করা হয় কারণ এগুলো আইফোন, ইভি ব্যাটারি এবং কোভিড টেস্টিং কিট উৎপাদনসহ বিভিন্ন কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জিও পলিটিকা রিপোর্ট অনুযায়ী, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিসের চীন বিশেষজ্ঞ এমিলি ডি লা ব্রুয়েরে বলেছেন, বেইজিং দুঃষ্প্রাপ্য ধাতু ব্যবহার করছে বিশ্ব শক্তি প্রতিযোগিতায় কৌশলগত উপায় হিসেবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জবরদস্তিমূলক দমন করার জন্য চীন এসব দুঃষ্প্রাপ্য ধাতুগুলোর উপর আধিপত্য বিস্তার করছে। জিও পলিটিকার রিপোর্ট অনুসারে, জাপানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রহম ইমানুয়েল বলেছেন, বিশ্ব বুঝতে পেরেছে যে চীন কীভাবে অর্থনৈতিক, সামরিক এবং রাজনৈতিক সুবিধার জন্য জবরদস্তি নীতি ব্যবহার করেছে।
জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া চীনের অর্থনৈতিক জবরদস্তি এবং মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধ করার জন্য একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রুপ সফর স্থগিত করেছে। চীন তার স্বার্থ অনুযায়ী যে কোনো কারণে জবরদস্তি নীতি ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
চীনা ভিন্নমতাবলম্বী লিউ জিয়াওবোকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার পর বেইজিং নরওয়ে থেকে স্যামন মাছের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের 'জবরদস্তিমূলক রাজনীতি' শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মতো বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে আঘাত করেছে।
অনেক ইউরোপীয় দেশ তাইওয়ানের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন দেওয়ার পরে চীনের 'অর্থনৈতিক জবরদস্তির' শিকার হয়েছে।তাইওয়ানকে সমর্থন দেওয়ার পরে চীন এই দেশগুলো থেকে আমদানি সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল। বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, চীন ভবিষ্যতে 'অর্থনৈতিক জবরদস্তি' ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার জন্য 'অপ্রচলিত এবং নজিরবিহীন' ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারে।
