সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘ত্রাণ চাই না, ভাঙন থেকে চিরতরে পরিত্রাণ চাই’

১৫০ কোটি টাকা ঋণে নির্মিত বাঁধে ভাঙন, টেকসই ওয়াপদা বেড়িবাঁধের দাবি

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ১৫:২৯

তিনটি পৃথক দ্বীপের সমন্বয় খুলনার দাকোপ উপজেলা গঠিত। এখানে সারা বছর ভয়াবহ নদী ভাঙন  চলে। প্রতিনিয়ত ভাঙনের কবলে পড়ে সহায় সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে তাই দাকোপে টেকসই ওয়াপদা বেড়িবাঁধের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিনটি পোল্ডারের ৩১ নম্বর পোল্ডার ও দ্বীপে রয়েছে চালনা পৌরসভা, পানখালী ও তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন। ৩২ নম্বর পোল্ডার ও দ্বীপে কামার খোলা ও সুতার খালী ইউনিয়ন। ৩৩ নম্বর পোল্ডার ও দ্বীপে বাজুয়া, দাকোপ, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব ও বানিশান্তা ইউনিয়ন। এর মধ্যে ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারে বিশ্বব্যাংক থেকে নেওয়া ১৫০ কোটি টাকা ঋণে নির্মিত হয়েছে টেকসই নতুন ওয়াপদা বেড়িবাঁধ।  যা এখনো পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিন্তু তার আগেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে নির্মিত বেড়িবাঁধে ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারবাসীর কোনো কাজেই আসেনি।

উপজেলার গুনারী কালিবাড়ি এলাকার সত্তরোর্ধ্ব নকুল চন্দ্র সরদার বলেন, আগে গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ ছিল। এখন এসব কল্পকাহিনীর মতো। কারণ একাধিকবার খরস্রোতা ঢাকী নদীর ভাঙনে গিলে খেয়েছে বসতভিটা। সহায় সম্বল অনেক হারিয়েছি। ভাঙনে প্লাবিতের পর ত্রাণ চাই না, ভাঙন থেকে চিরতরে পরিত্রাণ চাই। বাঁচার মতো বাঁচতে চাই, চাই টেকসই ওয়াপদা বেড়িবাঁধ।

এলাকাবাসী জানায়, অব্যাহত ভয়াবহ নদী ভাঙনে খুলনার দাকোপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিনটি পোল্ডারে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক ভাঙনের কারণে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে এ সব নদী পাড়ের জনবসতীর মানচিত্র। অতি দ্রুত স্থানগুলো মেরামত না করলে বেড়িবাঁধ নদী গর্ভে বিলিন হতে পারে।

৩২ নম্বর পোল্ডারের সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, ভাঙন কবলিত বেশ কয়কটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বালির বস্তা ফেলে ওয়াপদা বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না। কারণ ব্লক না ফেললে ভাঙন প্রতিরোধ করা যাবে না। এতে শুধু দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন করেও কোন লাভ হলো না।

এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, তিনটি পোল্ডারে সকল ঝুঁকিপূর্ণ স্থান মিলে মোট ৬ কিলোমিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ। এসব স্থানে ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিং করা এবং বিকল্প বাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

ইত্তেফাক/আরএজে