নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা
নগর জীবন থেকে শুরু করে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় রয়েছে নানা রকম যানবাহন, বর্তমান সময়ে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম হলো ব্যাটারিচালিত রিকশা। যাতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও যোগাযোগে নবঅধ্যায় উদিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিশেষ করে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় অটোরিকশার কান ফাটানো হর্ন এবং এলইডি হেডলাইটের আলো আপদ হয়ে দেখা দিয়েছে জনসাধারণের। রাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ব্যবহূত এলইডি হেডলাইট ব্যবহারে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলায় ব্যাপকভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ব্যবহার হয়। যার ফলে গ্রামাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে যানজট এবং রাতে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক এবং আশপাশের এলাকায় ছোট সড়কে এসব যানবাহনের এলইডি হেডলাইটের কারণে চলাচল করা দুঃসহ হয়ে উঠেছে। কারণ এলইডি হেডলাইটের তীব্র আলো বিপরীত প্রান্তের যান সড়কের প্রকৃত অবস্থান বুঝতে না পারায় বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। উপজেলার মহরকোনা গ্রামের অটোরিকশা চালক জামালউদ্দিন বলেন, অটোর আসল হেডলাইট ব্যবহার হলে (চার্জ) খরচ বেশি হয়, হেডলাইডের বাল্ব নষ্ট হলে এলইডি হেডলাইট ব্যবহার করা হয়, ফলে কম খরচে বেশি লাভ হয়। এলইডি লাইট রাতে ব্যবহারে সামনে কোনো অটো আসলে শুধু ঝাপসা দেখা যায়, তখন দুর্ঘটনা এড়াতে ধীরে গাড়ি চালানো হয়।
নিকলী সদর ইউনিয়নের পুকুর পাড় গ্রামের মোটরসাইকেল চালক কামাল মিয়া জানান, অটোর অত্যাচারে রাতে মোটরযান চালানো খুব অসুবিধা, সামনে অটো আসলে হেডলাইটের আলোয় আর কিছুই দেখা যায় না, চোখ একদম ঝাপসা হয়ে আসে। এখন অনেকেই মোটরসাইকেল, পিকআপ, ভ্যানে ওই তীব্র ঝাপসা এলইডি লাইট ব্যবহার করেন। নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা আক্তার এবং নিকলী থানার ওসি মো. নাছিরউদ্দিন ভূইয়া বলেন, গত ২২ জানুয়ারি উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নিকলীতে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে তীব্র ঝাপসা এলইডি লাইটের ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
