‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’

চলতি মৌসুমে কোটি কেজি চা উত্পাদনের সম্ভাবনা

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ২১:৪৪

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবস্থার চিত্র পাল্টে দিয়েছে পঞ্চগড়ের চা আবাদ। খুলে দিয়েছে উন্নয়নের স্বর্ণদ্বার। সমতল ভূমিতে ক্ষুদ্রায়তন পদ্ধতিতে চা আবাদ করে অনেক চাষি এখন বেশ স্বাবলম্বী। দিনে দিনে বাড়ছে চা আবাদের পরিধিও। দেড় যুগ আগের পঞ্চগড় আর বর্তমানের পঞ্চগড় এখন অনেক ব্যবধান। এই দেড় যুগে পাল্টে গেছে জেলার সার্বিক দৃশ্যপট। ইতিমধ্যে চায়ের অঞ্চল হিসেবে ব্র্যান্ডিয় জেলায় স্বীকৃতিও পেয়েছে পঞ্চগড়। পঞ্চগড়ের চা নিয়ে এটুআই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ চা বোর্ড কর্তৃক ‘দুটি পাতা একটি কুড়ি’ নামে মোবাইল এ্যাপস রয়েছে। যে এ্যাপস থেকে চা সম্পর্কে যে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে কোটি কেজি তৈরি চা উত্পাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক অফিস সূত্র থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রমতে, মার্চ থেকে নভেম্বর মাস হলো চায়ের ভরা মৌসুম। বাংলাদেশ চা বোর্ডের ‘নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের’ আওতায় পঞ্চগড় এবং পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও জেলায় ২০১৮ সালের মৌসুমে ৮৪ লাখ ৬৭ হাজার কেজি তৈরি চা উত্পাদন হয়েছিল। এবার চা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ লাখ কেজি নির্ধারণ করা হলেও তা এক কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে সূত্রটি জানায়। উত্তরাঞ্চলে চা চাষ সম্প্রসারণ এবং চায়ের উত্পাদন বৃদ্ধির জন্য ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ চা বোর্ড ‘নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২১ সালের জুনে। চাষিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান, স্বল্পমূল্যে উচ্চফলনশীল ও গুণগত মানসম্পন্ন বিটি সিরিজের চারা সরবরাহ এবং নতুন করে চা চাষে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য এই প্রকল্পকে ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দিক-নির্দেশনায় ২০০০ সালের এপ্রিলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে চা চাষ শুরু হয়। ‘নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের’ আওতায় এখন পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৬৪৫ একর জমিতে চা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে পঞ্চগড় জেলায় মোট চা আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৭৯২ একর জমিতে। যার মধ্যে নিবন্ধিত চা বাগান (স্টেট পর্যায়ে-২৫ একরের ওপরে) রয়েছে ১৮টি। ক্ষুদ্রায়তন বাগান (স্মল হোল্ডার-৫ থেকে ২৫ একর) নিবন্ধিত ১৫টি এবং অনিবন্ধিত ২টি। এছাড়া ক্ষুদ্র চা চাষির সংখ্যা (শূন্য থেকে ৫ একর) নিবন্ধিত ৬১৮ এবং অনিবন্ধিত ৩ হাজার ১৯০ জন। এই প্রকল্পের আওতায় পার্শ্ববর্তী জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মোট ৭৪১ একর জমিতে চা আবাদ হচ্ছে। সেখানে বাগান পর্যায়ে ১টি নিবন্ধিত ও ১টি অনিবন্ধিত চা বাগান রয়েছে। অনিবন্ধিত ক্ষুদ্রায়তন বাগান ১টি এবং নিবন্ধিত ক্ষুদ্র চাষি ৩০৬ জন ও অনিবন্ধিত রয়েছেন ২০০ জন। এছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও দিনাজপুর জেলায় চা আবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে জানান প্রকল্প কর্মকর্তারা। জেলায় ১২টি এবং ঠাকুরগাঁও জেলায় ১টিসহ মোট ১৩টি চা প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় উত্পাদিত কাঁচা চা পাতা থেকে চা উত্পাদন করা হয়।