ছাত্ররাই নিচ্ছে ক্লাস

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ২১:৪৫

গোদাদীঘা বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা 

নিকলীর সিংপুর ইউনিয়নের গোড়াদীঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে ছাত্ররাই ‘শিক্ষকতা’ করছেন। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নেয় চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তৃতীয় শ্রেণির আর তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস নেয়। অপরদিকে প্রধান শিক্ষক পদটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুপালী রানী দাস ও নিবেদিতা রানী চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজসহ পাঠদান সবই শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় করতে হচ্ছে। দুজন শিক্ষকের পক্ষে বিদ্যালয়ের সব কটি ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জিবনী আক্তারকে দিয়ে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রকিব মিয়াকে দিয়ে তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস এবং রুয়েনা আক্তারকে দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হয়।

শিক্ষিকা রুপালী রানী দাস বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আ. রুপ মিয়া বলেন, গত একবছর ধরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে বলছি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা আক্তার জানান, দুজন শিক্ষকের মধ্যে তো একজনকে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ ও কাগজপত্র ঠিক করতেই ব্যস্ত থাকতে হয়। আর একজন শিক্ষক এতগুলো শিক্ষার্থীকে পাঠদানে হিমশিম খান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইসলামউদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষক পদটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শূন্য ও সহকারী ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক পিটিআই ট্রেনিংয়ে চলে যাওয়ার পর নতুন কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে শূন্য পদ পূরণ করা হবে। এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি এখন শুনলাম, এর আগে আমাকে কেউ জানায়নি। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করবো।