বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যশোরে আওয়ামী লীগের স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা হবে : নানক

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২২, ০৩:০২

আগামী ২৪ নভেম্বর যশোরে আওয়ামী লীগের স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভা হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভাস্থল যশোর শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিক এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

পরিদর্শনকালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, বাগেরহাট ১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়সহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, যশোর স্টেডিয়ামে জনসমাগম জনসমুদ্রে ঘটার মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের স্মরণকালের বৃহত্তম জনসভায় রুপ নেবে। এই জনসভা শুধু স্টেডিয়ামের ভিতর সীমাবদ্ধ থাকবে না; এই জনসভাটি সমগ্র যশোর শহরেই একটি জনসভায় রুপ নিবে। এই জনসভাটি আওয়ামী লীগের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ২৭ মাস পর জনগণের সাথে সরাসরি কোন জনসমুদ্রে উপস্থিত হবেন। কাজেই এটি দেশবাসীর কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই জনসভায় তিনি শুধু যশোরবাসীর জন্য না, তৃণমূল  আওয়ামী লীগ ও দেশবাসীর উদ্দেশ্য ভাষণ দিবেন। দেশের অর্থসামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরে ভাষণ দিবেন। 

তিনি আরো বলেন, আমাদের সভাসমাবেশ কোন রাজনৈতিক দলের উপর পাল্টা কোন কর্মসূচি নয়। আমরা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি বলেই এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আগামী বছরের ডিসেম্বর বা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এই নির্বাচনটি দেশবাসীর কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ; তেমনি দলীয়ভাবেও আওয়ামী লীগের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তৃণমূল  আওয়ামী লীগের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে সরাসরি উপস্থিত হয়ে দেশনেত্রী শেখ হাসিনা তাদের কথা বলবেন। একই সাথে তাদের বাকী চাওয়া-পাওয়া পূরণ করবেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী আবহাওয়া নিয়েই যশোর দিয়ে শেখ হাসিনার নির্বাচনী জনসভা শুরু হচ্ছে। বিভিন্ন সভাসমাবেশে বিএনপি দাবি করছেন ‘জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে। এটাই যদি বিএনপির দাবি হয়ে থাকে; তাহলে বিএনপি কেন নির্বাচনে আসতে ভয় পাচ্ছে প্রশ্ন আব্দুর রহমানের। তিনি বলেন,  বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতি না নিয়ে তারা কেন নৈরাজ্য সৃষ্টি করার লক্ষে সভা সমাবেশ করে বেড়াচ্ছে। তারা সমাবেশের নামে দেশে অস্থিতিশীল সৃষ্টি করছে। তারই প্রতিবাদে সামগ্রিক ভাবে দেশবাসীর কাছে তিনি আহবান জানান, বিএনপির নৈরাজ্য প্রতিরোধ গড়তে যশোরে শেখ হাসিনার জনসভায় দলে দলে যোগ দেওয়ার।   

পরিদর্শনকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি, সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, সংসদ সদস্য মো. নাসির উদ্দীন, সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।  

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় ব্যানারে যশোর দিয়ে শেখ হাসিনার নির্বাচনী জনসভা শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। যশোর শহরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এ জনসভা। সম্প্রতি সময়ে অনুষ্ঠিত বিএনপির গণসমাবেশ গুলোর চেয়ে বড় জমায়েত করতে চায় দলটি। ৫ বছর পর শেখ হাসিনার যশোর আগমনে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমে। 
 
দলীয় সূত্রে জানাগেছে, জনসভা উপলক্ষে এরই মধ্যে পোস্টারিং, মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা চলছে। সভা-সমাবেশের বাইরে সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনসভা সফল করতে প্রতিনিয়ত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল দল ছাড়াও ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জনসভা সফলের লক্ষ্যে বিশেষ প্রস্তুতি সভা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর যাওয়া-আসার রাস্তা বাদ রেখে শহরের অন্যান্য সড়কে তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। জনসভা ঘিরে শহরজুড়ে নিজেদের প্রচারণার ব্যানার কমিটি ছাড়াও পোস্টার করেছেন স্থানীয় নেতারা। শহরের দড়াটানা মোড়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ম্যুরাল চত্বর, গরিবশাহ সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টার টানিয়েছেন দলীয় নেতারা। ইতোমধ্যে বিশাল গণজমায়েতের জন্য চার হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ১০টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে, যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় প্রথমবারের মতো আনা হয়েছে দেশের ঐতিহ্যবাহী কলরেডি কোম্পানির মাইক। জনসভার ভাষণ প্রচারে শহরজুড়ে থাকবে এই কোম্পানির দুই শতাধিক মাইক।

ইত্তেফাক/ইআ