রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেলে শেষ বয়সে থাকতি পারতাম’

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২২, ১৭:২৪

তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের মৃত এজহার আলী মোড়লের ছেলে বৃদ্ধ গফফার মোড়ল (৬২) ও তার অন্ধ স্ত্রী রওশন আরা বেগম (৫৭)। দুজনেই বয়সের ভারে আজ ন্যূজ্ব। সংসারে উপার্জনের কেউই নেই, এতদিন কাজ করে সংসার চালালেও বর্তমানে বার্ধক্যজনিত কারণে অন্যের দয়ায় বেঁচে থাকতে হয়। অর্ধাহার-অনাহারে করতে হয় দিনাতিপাত। সরকারি কোনো ভাতা বা অনুদান জোটেনি আজ পর্যন্ত। নেই কোনো ঘরবাড়ি। এ জন্য অন্ধ স্ত্রীকে নিয়ে থাকতে হয় বিলের ধারে অন্যের জমিতে খোলা আকাশের নীচে গাছতলায়। এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের বর্ণনা করেন বাষট্টি বছরের বৃদ্ধ গফফার মোড়ল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বারুইহাটি পশ্চিম পাড়ার গফফার মোড়ল তার অন্ধ স্ত্রী রওশন আরা বেগমকে নিয়ে বিলের ‍ধারে গাছতলায় অন্যের জমিতে জরাজীর্ণ খুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।  জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই বৃদ্ধ দম্পতির খাওয়া-দাওয়া সবই এতটুকু জায়গায়। 

গফফার মোড়লের স্ত্রী রওশন আরা বেগম চোখে দেখতে পান না।  তিনি বলেন, কখন যে ঝড়-বাতাসে ঘরটি ভেঙে পড়ে, সে জন্য রাতেও ঘুমাতে পারি না। শুনেছি জমিসহ প্রধানমন্ত্রী ঘর উপহার দেন। তিনি শেষ বয়সে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাওয়ার আকুতি জানান।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম জানান, বৃদ্ধ গফফার মোড়ল আসলেই একজন অসহায় লোক। সে যে ঘরে থাকতেন সেটি অন্যের বা ভেঙে পড়েছিল, তা সঠিক আমার জানা নাই। সে একটা ঘর পাওয়ার যোগ্য।  

তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন বলেন, ঐ বৃদ্ধের ভাতিজারা তাদের দেখভাল করে। তবুও বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।  

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/বুখারী/পিও