রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দাকোপে বাঁধসহ বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন, পানিবন্দি ২ শতাধিক পরিবার

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২, ১৪:৩৮

খুলনার দাকোপে প্রবল ভাটার টানে ২০০ মিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধসহ ১৫ বসতঘর পশুর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে লোকালয়ে পানি ঢুকে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভাঙন এলাকার আশপাশ থেকে আরও অনেক পরিবার অন্যত্র সরে গেছে।

এদিকে কৃষকের আধা পাকা আমন ধানের ক্ষেত পানিতে ঢুবে আছে। দুইটি গ্রামের প্রায় অর্ধশত পুকুরের সাদা মাছ ভেসে গেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, উপজেলা সদর পানখালী ইউনিয়নের পানখালী খলিসা স্লুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১ নম্বর পোল্ডারের ওয়াপদা বেড়িবাঁধে গত মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফাঁটল দেখা দেয়। বুধবার(২৩ নভেম্বর)দিবাগত রাতে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ পশুর নদী গর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। এ সময় মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বাঁধের পাশেই ১২টি বসত বাড়ি ও নানা স্থাপনা বিলীন হয়। ভাঙন এলাকা থেকে অনেক পরিবার তাদের বসত বাড়ির মালামাল রক্ষার্থে তা ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

পশুর নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় বড় খলিশা ও পানখালী গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক বসত বাড়ি প্লাবিত হয়ে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া প্রায় এক হাজার বিঘা আধা পাকা আমন ফসলের ক্ষেতে পানি ঢুকে পড়ায় এলাকার শতশত কৃষক পরিবার সম্পূর্ণভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এদিকে বুধবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস পাউবোর কর্তৃপক্ষকে নদী ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এসময়ে তিনি নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে সহয়তা দেয়ার আশ্বস দেন।

ভাঙনকবলিত স্থানে সহকারী প্রকৌশলী গোপাল চন্দ্র দত্তের নেতৃত্ব শ্রমিকরা বাঁধ আটকানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান জানান, আর কয়েকদিন পর আমন ধান কর্তন শুরু হবে। এখন কৃষকের আধা পাকা ধানক্ষেত পানিতে ঢুবে থাকলে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ পানি নেমে যাওয়ার সময় ওই ধান গাছগুলো নুয়ে পড়ার সম্ভবনা বেশি।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, পানখালী খলিস স্লুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় নদী ভাঙনের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি। এছাড়া ভাঙন কবলিত স্থানে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য পাউবো’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।                

                 

ইত্তেফাক/আরএজে