রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ফুলবাড়ীতে খাদ্যগুদামে ধান-চাল দিতে অনাগ্রহ মিল মালিকদের

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২২, ১৫:৪৫

সরকারিভাবে আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে গত ১৭ নভেম্বর থেকে। কিন্তু দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এ কার্যক্রম এখনও উদ্বোধনই হয়নি। ধান-চালের বর্তমান বাজার দরের চেয়ে সরকারি মূল্য কম। লোকসানের আশঙ্কায় খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের নতুন চুক্তিতে আগ্রহ নেই কৃষক ও মিল-চাতাল মালিকদের। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দুইটি সরকারি খাদ্যগুদামে চলতি আমন সংগ্রহ মৌসুমে এক হাজার ৬ মেট্রিক টন ধান এবং তিন হাজার ৭৩ দশমিক ৯৮০ মেট্রিক টন চাল কেনা হবে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি প্রতিকেজি ধান ২৮ টাকায় এবং চুক্তিবদ্ধ হওয়া মিল-চাতাল মালিকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল ৪২ টাকায় কেনা হবে। 

মিল-চাতাল ব্যবসায়ি আলহাজ্ব মহসিন আলী চৌধুরী বলেন, বাজারে এখন প্রতিকেজি মোটা ধান ৩১ থেকে ৩২ টাকায় আর চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকায়। এ কারণে সরকারি খাদ্যগুদামে চাল দিলে এবারও লোকসান গুণতে হবে।  

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন ধান। এই ফলন আশাতীত। কিন্তু চাষাবাদের শুরুতে ইউরিয়া সার, কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বীজতলা ও জমি তৈরি, আগাছা পরিষ্কারসহ দিনমজুর ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণ। 

উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির সভাপতি শামসুল হক মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, লোকসানের আশঙ্কায় মিল-চাতাল মালিকরা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে চাচ্ছেন না। এতে মিল-চাতালের রেজিস্ট্রেশন বাতিল হলেও কিছুই করার নেই লোকসান গুণে তো ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যাবে না। 

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মঈন উদ্দিন বলেন, গেল বোরো মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী ধান ও চাল কেনা সম্ভব হয়নি। মিল-চাতাল মালিকরা লোকসানের অজুহাত দেখান। এ অবস্থায় আমন মৌসুমের ধান-চাল কেনার নির্দেশনা এসেছে। তালিকাভুক্ত ১৩৩ জন মিল-চাতাল মালিক সরকারিভাবে চুক্তিবদ্ধ হলেই সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের সঙ্গে মিল-চাতাল মালিকদের চুক্তি হবে। যারা চুক্তিবদ্ধ হবেন না তাদের চাতালের রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ জরিমানা হতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, এবার আমনের উৎপাদন খরচ বাড়লেও কৃষকদের লোকসান হওয়ার কথা নয়, কারণ আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। 

উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, যেভাবেই হোক সরকার নির্ধারিত মূল্যেই খাদ্যগুদামে ধান-চাল ক্রয় সম্পন্ন করতে হবে।

ইত্তেফাক/এআই