মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সিলগালা চরভদ্রাসন খাদ্যগুদাম, পালিয়েছেন কর্মকর্তা

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ১৮:১৪

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে চাল আত্মসাতের অভিযোগে গুদামটি সিলগালা করেছেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি। গত ২৩ নভেম্বর সন্ধায় গুদামটি সিলগালা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নানা তালবাহানা দেখিয়ে প্রায় ৩ মাস চরভদ্রাসনের ইউপি চেয়ারম্যানদের ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল সরবরাহ বন্ধ করে দেন খাদ্যগুদামের কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ছানোয়ার হোসেন। এতে খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয় উপজেলার দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারগুলো।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা কবির ত্রপা জানান, ইউপি চেয়ারম্যানগণ গত দুই মাস ভিজিডির চাল না পাওয়ার বিষয়টি আমাকে অবহিত করেনি। চরভদ্রাসন খাদ্যগুদাম থেকে প্রায় তিন মাস ভিজিডির চাল সরবরাহ করা হচ্ছে না বলে গত সপ্তাহে ইউপি চেয়ারম্যানরা আমার কাছে লিখিত আবেদন করেন। আমি সরজমিনে গুদাম পরিদর্শন করে ডিসি অফিসে রিপোর্ট প্রদান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

তিনি বলেন, চরভদ্রাসন উপজেলার সাবেক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ঠিকমতো অফিস করলে তার অধীনস্থ খাদ্যগুদামের দায়ীত্বে থাকা ওসিএলএসডি গরীবের চাল নিয়ে এমন করসাজি করতে পারতো না। চেয়ারম্যানদের উচিত ছিল আরও আগে লিখিত অভিযোগ করা। খাদ্যগুদামের তদন্ত ও সিলগালা করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ওই দপ্তরের।

চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্যগুদাম। ছবি: ইত্তেফাক

ভিজিডির চাল না পাওয়ার বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারমিন সুলতা জানান, অভিযোগের বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানিয়েছেন। বেশ কয়েকবার চরভদ্রাসন খাদ্য গুদামের দায়িত্বে থাকা ওসিএলএসডিকে চেয়ারম্যানদের পাওনা হতদরিদ্রদের চাল দিয়ে দিতে বলেন। চাল নিম্নমানের, বস্তা সংকট, লেবার নেই- এমন নানা অজুহাত দেখিয়ে চেয়ারম্যানদের চাল না দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে খাদ্য গুদামের দায়ীত্বে থাকা ছানোয়ার হোসেনকে বেশ কয়েকবার সতর্কও করা হয়।

উপজেলার গাজিরটেক ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলি বলেন, আমার ইউনিয়নে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৬৫৭ জন অতিদরিদ্র সুবিধাভোগী চাল না পেয়ে ফেরত গেছে। বিষয়টি আমি গত ১৫ নভেম্বর লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। এছাড়া দায়িত্বে থাকা ওসিএলএসডির বিরুদ্ধে চরভদ্রাসন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার চারটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি'র উপকারভোগী ৬৭০ জনের চার মাসে ৮০ মে. টন চাল, হরিরামপুর ইউনিয়নের ৫৭৯ জনের তিন মাসে ৫২ মে. টন, গাজীরটেক ইউনিয়নের ৬৫৭ জনের ৬০ মে. টন এবং চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের ২৫৩ জনের ২২ মে. টন মিলিয়ে মোট ২২১৪ মে. টন খাদ্য বিতরণ করা হয়নি।

এসব চাল ছাড়াও গুদামের ৭০ মে. টন চাল ও ১২০ মে. টন ধান ঘাটতি রয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) তারিকুজ্জামান বলেন, খাদ্যগুদামে চাল ঘাটতির সত্যতা মিলেছে। তদন্ত প্রতিবেদন শেষে কত টন চাল ঘাটতি রয়েছে তা জানানো হবে। ওসিএলএসডি ছানোয়ারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও নানা অনিয়মের অবিযোগ রয়েছে।

চরভদ্রাসন ওসিএলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সানোয়ারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

খাদ্যগুদাম সিলগালা করার বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন মুঠোফোনে জানান, চেয়ারম্যানদের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বুধবার চরভদ্রাসন উপজেলায় কর্মরত ওসিএলএসডি ছানোয়ার হোসেন ও শংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তদের নিয়ে খাদ্যগুদামে যান। নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যত্যা পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে গুদামে চাল ঘাটতির প্রমাণ পেয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ওসিএলএসডি ছানোয়ার সারাদিন তাদের সাথে ছিল। বিকেলে এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্য়ালয়ে বসার কথা ছিল। কিছু সময় পরে ছানোয়ারকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তার ফোনটি বন্ধ রয়েছে। তদন্ত শেষে জানা যাবে কত মে. টন চাল খাদ্য গুদামে ঘাটতি রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসকে