রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঢাবিতে ফুটবল উৎসব, রাত জেগে চলে খেলা দেখা

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৩০

ফুটবল বিশ্বকাপের দুনিয়ায় ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ প্রতিবারই উচ্ছ্বাস জাগায়, উন্মাদনা ছড়ায় বিশ্ব জুড়ে। সে উচ্ছ্বাস এবং উন্মাদনার ছোঁয়ার বাইরে নয় বাংলাদেশ। সে ধারাবাহিকতায় এবারের উচ্ছ্বাস যেন অন্য বারের চাইতে একটু বেশি। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, মানুষের ফুটবলপ্রীতি—সে উচ্ছ্বাসকে আরেক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, রাস্তার ধারের ডিজিটাল স্ক্রিন, গলিপাড়া মহল্লায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে সে উন্মাদনা মাত্রা পাচ্ছে বহু গুণে।

ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ উপলক্ষে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বসানো হয়েছে তিনটি জায়ান্ট স্ক্রিন। এসব স্ক্রিনে নিয়মিত দেখানো হয় বিশ্বকাপের পর্বগুলো। খেলার প্রতিটি পর্বে এসব স্ক্রিনের সামনে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় দর্শকদের। রাত জেগে তারা খেলা উপভোগ করেন। কিন্তু এ দৃশ্য পুরোপুরি পালটে যায় যখন খেলা হয় ‘মোস্ট ফেবারিট’ দলগুলোর। নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন দিতে সবাই হাজির হন এসব স্ক্রিনের সামনে। আলোচনা, খুনসুটি কিংবা বিতর্ক হয় বন্ধুবান্ধব, সহপাঠীদের সঙ্গে। এসময় হাজার হাজার দর্শকের সমাগম হয় স্ক্রিনের সামনে। খেলা শুরুর পরই শুরু হয় হর্ষধ্বনি, আনন্দ-উল্লাস কিংবা হঠাৎ গোলেই ফেটে পড়ে দর্শকসারি। 

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ‘মোস্ট ফেবারিট’ দল ব্রাজিলের খেলা ছিল সার্বিয়ার সঙ্গে। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ব্রাজিলের ম্যাচ উপলক্ষে সমর্থকরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পতাকা হাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে শোভাযাত্রা করছেন, কোন কোন দল ভুভুজেলা বাজিয়ে উল্লাস করছে। কেউ কেউ ব্রাজিলের সমর্থন জানিয়ে করেছেন র‌্যালিও।

খেলা দেখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় দুটি ও হাজি মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠে একটি ডিজিটাল স্ক্রিন বসানো হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও তার আশপাশে প্রজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখার ব্যবস্থা ছিল। ব্রাজিল ও সার্বিয়ার মধ্যকার ম্যাচ দেখতে গতকাল রাতে ক্যাম্পাসের এসব স্থানে হাজারো দর্শকের সমাগম ঘটে। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী ছাড়াও ছিলেন ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। খেলা শেষে টিএসসির ডিজিটাল স্ক্রিনের সামনে শুরু হয় ব্রাজিল-সমর্থকদের তুমুল নাচ। সেখানে অন্য দলের সমর্থকদের সঙ্গে মজা করতে দেখা যায় ব্রাজিল-সমর্থকদের। বেড়ে যায় ভুভুজেলার শব্দ। ব্রাজিল সমর্থকদের আরেকটি অংশ রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে উল্লাস করেন। টিএসসি ও তার আশপাশের সড়কে ব্রাজিলের পতাকা নিয়ে মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা করেন ব্রাজিলের একদল সমর্থক। ঘণ্টাখানেক ধরে এই উদযাপন চলে।

স্যার এ এফ রহমান হলের সামনে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে খেজুর বিতরণ করেন ব্রাজিল-সমর্থকেরা। এর কারণ হিসেবে তারা জানান, বিশ্বের অন্যতম খেজুর রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে পরাজিত হওয়ায় তারা মজা করে দলটির সমর্থকদের খেজুর খাওয়াতে চেয়েছেন।

র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থী নিয়াজ হোসেন বলেন, বিশ্বকাপ মানেই উত্তেজনা। বিশ্বকাপের ধামামা বাজলেই পাড়া-মহল্লায় ফুটবল দল নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। আমরা তার বাইরে নই। ফুটবলে নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন জানানোর জন্য এবং এই বিশ্বকাপকে উপভোগ করতে আমাদের এই আয়োজন।

হলগুলোতে টানানো হয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ নানা দলের পতাকা। বিশ্বকাপ উদযাপনের জন্য টানানো এসব পতাকা বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সভাপতি সজিবুর রহমান সজিব বলেন, শিক্ষার্থীরা উৎসব উদযাপন করতে এসবের আয়োজন করে থাকে।

এদিন রাজধানীর কাওরান বাজারের বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের ডিজিটাল স্ক্রিনেও খেলা দেখানো হয়। সেখানে রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে পথচারীরা খেলা দেখেন। এখানেও দেখা যায় একই চিত্র। খেলা দেখতে আসা আজিম উদ্দিন নামের এক রিকশাওয়ালা বলেন, ছোট বেলা থেকে ব্রাজিল আমার প্রিয় দল।

ইত্তেফাক/এমএএম