স্কুটিচালক নারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ২২:১৮

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

কর্মব্যস্ত নগরীতে স্কুটিচালক নারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে সব পেশায় নারীদের রয়েছে পদচারণা। ফলে তাদের যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে অন্যের দিকে না তাকিয়ে, তারা নিজেই সেই সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছেন। তারা নিজেরা এখন নিজেদের বাহনটি চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মক্ষেত্রে।

কর্মব্যস্ত রাজধানীর সকালে প্রতিটি বাসস্ট্যান্ডে এখনো দেখা মেলে নারীদের গণপরিবহনে ওঠার প্রতিযোগিতা। সেটা যেন নারীর জন্য এক যুদ্ধক্ষেত্র। যাতায়াতের এই ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে না পেরে অনেকে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এই সমস্যায় নারীদের যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তখন নারীরা সব শঙ্কা ঝেরে নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন ড্রাইভিংয়ের। অসংখ্য নারীকে এখন দেখা যায় নগরীতে স্কুটি চালিয়ে কাজে যেতে। কেউবা যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কেউ যাচ্ছে কর্মক্ষেত্রে, কেউ বা তার সন্তানকে স্কুলে দিতে ও নিতে যাচ্ছেন। এভাবেই নারীরা চালিয়ে যাচ্ছেন স্কুটি বা বাইসাইকেল কিংবা চার-চাকার গাড়ি। আর নারী পেশাদার চালক তো রয়েছেনই।

কথা হয় স্কুটিচালক এনজিও কর্মী নাসিমা শারমিনের (ছদ্মনাম) সঙ্গে, তিনি বলেন, প্রতিদিন অফিসের আগে বাচ্চাকে স্কুলে নামিয়ে তারপর আমি অফিসে ঢুকি। কিন্তু সেটা করতে আগে প্রায় দিন আমি সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারতাম না এবং দুপুরে আমার মেয়েকে আবার স্কুল শেষে নিয়ে বাসায় রেখে অফিসে ঢোকা ছিল আমার জন্য খুব অস্বস্তির। অথচ সন্তানকে স্কুলে দেওয়ার জন্য আমার কেউ নেই। কারণ আমি সিঙ্গেল মাদার। একপর্যায়ে অফিসের লোকজনের কটূক্তির কারণে আমি চাকরিটা ছেড়ে দিই। দুই মাসের ব্যবধানে অন্য একটি চাকরিতে যুক্ত হই। আর ঐ দুই মাসে স্কুটি চালানো শিখি এবং একটি স্কুটি কিনি। এখন আমার কোনো সমস্যা হয় না।

অন্য একজন স্কুটিচালক বলেন, আমি মোহাম্মদপুর থেকে গুলশান অফিস পৌঁছাতে প্রায় দিনই লাল কালির চিহ্ন পাই। এভাবে বেতনও কাটা গিয়েছে অনেক দিনের। আমি দুই ঘণ্টা হাতে নিয়ে বের হয়েও সময়মতো অফিসে পৌঁছতে পারতাম না, কেবল বাসে উঠতে না পারা আর যানজটের কারণে। পরে চাকরি রক্ষার্থে হিজাব পরেই স্কুটি চালাতে শুরু করি। কারণ আমার কাছে দায়িত্বটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ সেটা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঠিকভাবে পালন করতে পারছিলাম না।

কানিজ ফাতেমা ছন্দা বলেন, ঢাকায় এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ নারীকে সাইক্লিং ট্রেনিং দিয়েছি। কানিজের স্বপ্ন এ দেশের মেয়েরা গণপরিবহনে যৌন হয়রানি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে নিজেই যাতায়াতের বাহন পরিচালনা করুক। সেই চিন্তা থেকে কানিজ প্রথমে নিজে সাইক্লিং শুরু করেন। নিজে এর সুফল ভোগ করেন। পরে অন্য মেয়েদের জন্য এই সুযোগ করে দিতে সাইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ শুরু করেন। এখন ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, শ্রীমঙ্গল, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় কাজ শুরু করেছেন। প্রচুর মেয়ে আসছে আমার সাইক্লিং স্কুলে। তিনি বলেন, আমার সাইক্লিং স্কুলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকারসহ অনেকে শিখছেন এবং সাইক্লিং করছেন।

নারী স্কুটিচালকদের সংখ্যা বাড়ার পর তারা গড়ে তুলছেন বিভিন্ন সংগঠন। এগুলোর একটি ‘বাংলাদেশ ওম্যান রাইডার্স ক্লাব’। ক্লাবটির সভাপতি ইশরাত খান মজলিশ বলেন, ধীরে ধীরে মানুষের মানসিকতা পালটাচ্ছে। আমাদের ক্লাবের অনেক সদস্য আছেন যাদের স্বামী তাদের স্কুটি কিনে দিয়েছেন, রাস্তাঘাটে যানজট এবং যানবাহন পাওয়ার দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে। নারীদের স্কুটি চালানো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।