রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিপাকে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৩০

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরশহরের বাজার এলাকায় প্রায় ৫০ বছর ধরে ডুঙ্গি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নামের খাবার হোটেল রয়েছে। এই হোটেলের আয় দিয়েই চলছে হোটেল শ্রমিক, রাঁধুনিসহ ১৪ জনের সংসার। তবে চাল, আটা, ভোজ্য তেলসহ খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে হোটলটির। শুধু ডুঙ্গি হোটেলেই নয়, উপজেলার কম বেশি পাঁচ শতাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি হোটেল ব্যবসায়ীরা বিপদে রয়েছেন।

স্থানীয় পাল হোটেলের স্বত্বাধিকারী খোকন পাল ও আসোয়াত হোটেলের স্বত্বাধিকারী আসোয়াত আলী বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে হোটেল ব্যবসানির্ভর জীবন-জীবিকায় ছেদ পড়েছে। গ্রাহক কমে যাওয়ার পাশাপাশি হোটেল ব্যবসায় মন্দাবস্থা চলছে। চলতি নভেম্বর মাসে খাদ্যসামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে।

ছবি- সংগৃহীত

ব্যবসায়ীরা জানান, জানুয়ারিতে ৩৭ কেজি ওজনের আটার বস্তা ৯০০ থেকে ৯২৫ টাকা ছিল। এখন সেই আটা ২ হাজার ৫৫০ টাকা। ৯০ টাকা লিটারের ভোজ্য তেল এখন ১৬৫ টাকা, ৮৮ টাকার পাম এখন ১৩৫ টাকা, ৭৫ টাকার চিনি ১০৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে নাজির সাইল ৫৬ টাকা কেজির চাল এখন ৬৮ টাকা, ৬ টাকার ডিম ১০-১২ টাকা, ১২০ টাকা প্রতিমণ খড়ি এখন ২০০ টাকা, ৮৫০ টাকার গ্যাস এখন ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় ভোক্তা পর্যায়েও হোটেলের খাবারের দাম বেড়েছে। এখন হোটেলে খেয়ে পোষায় না বলে জানান ফুলবাড়ী শহরের রাজধানী হোটেলে খেতে আসা আবু সাঈদ, আরমান আলী ও আলী আকবর। তারা বলেন, আগে যে পরিমাণ ভাত-তরকারি দেওয়া হতো, এখন তার চেয়ে কম দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দাম বেড়েছে।  হোটেল-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জানুয়ারিতে হোটেল শ্রমিকের মজুরি ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এখন মজুরি দিতে হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। উপজেলার প্রতিটি হোটেল-রেস্টুরেন্টেই গ্রাহকসংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমেছে।

ছবি- সংগৃহীত

প্রসিদ্ধ হোটেল ব্যবসায়ী সম্ভু প্রসাদ বলেন, খাদ্যপণ্যেও দাম বাড়ায় হোটেল চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। বেশি পুঁজি খাটিয়ে লভ্যাংশ কমছে। এতে পুঁজি হারিয়ে যেতে বসেছে। ইতিমধ্যে অনেক হোটেল ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে পুঁজিসংকটের কারণে।      

ইত্তেফাক/এমএএম