আধুনিক প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ নিন

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ২২:৪৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রযুক্তির উত্কর্ষতার এই যুগে অপরাধের ধরন পাল্টাতে থাকায় একে মোকাবিলার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যদের নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, নতুন প্রযুক্তি সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত অপরাধীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে। তাই আপনাদেরকে (এসএসএফ সদস্য) আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সুসজ্জিত করা হবে। নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন সম্পর্কে অবশ্যই আপনাদের সচেতন থাকতে হবে। ক্রমাগত পরিবর্তনশীল অপরাধ (প্রবণতা) সম্পর্কে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে এবং (এসব মোকাবিলার জন্য) প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। অপরাধীদের নতুন প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে মোকাবিলা করার জন্য এসএসএফ সদস্যদের আরো পারদর্শী হওয়া দরকার এবং সেইদিক থেকেও আমাদেরকে যুগোপযোগী থাকতে হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এসএসএফ অফিসার্স মেস-এ এসএসএফের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক ত্রিদেশীয় সফরের সময় সৌদি আরবে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইসলামের ভাতৃত্ববোধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মুসলিম দেশগুলোকে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানোর বিষয়টিও তার ভাষণে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শান্তির ধর্ম ইসলামে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই এবং আল্লাহ তায়ালাই শেষ বিচারের মালিক, কে ভালো মুসলমান কে ভালো নয়, সেটা নির্ণয়ের দায়িত্ব তিনি কাউকে দেননি। তাহলে আজকে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কেন এত সংঘাত, খুনোখুনি, রক্তারক্তি। কেন সমস্যাগুলো নিজেরা বসে আমরা সমাধান করতে পারি না।’ মুসলমানদের এই রক্তপাতে লাভবান হচ্ছে কেবল অস্ত্র ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করে তিনি এই সংঘাত বন্ধে ওআইসিকে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই যুগে মানুষের জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন হওয়ায় আমাদের জীবন-মানের উন্নয়ন ঘটছে, জীবনযাত্রাকে অগ্রগামী করছে, উন্নয়নের ধারাকে অগ্রগামী করছে পাশাপাশি নানা ধরনের ঝুঁকিরও সৃষ্টি করছে।’ তিনি এ সময় এসএসএফ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠে এই প্রযুক্তিকে যারা মন্দ কাজে ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উেক্ষপণ, নিজস্ব পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে, দেশি ও আন্তর্জাতিক বিশ্বের যেকোনো প্রকার ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার জন্যও অনুষ্ঠানে উপস্থিত এসএসএফ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নানা চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র আমাদের সামনে। আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যারা আমাদের সমর্থন দেয়নি তাদের চক্রান্ত, কুটিলতা, জটিলতা থাকবে। কিন্তু সেগুলো মোকাবিলায় আমাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’ এ সময় তিনি মাদকের ভয়াবহতা রোধ কল্পেও সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর ১৯৮১ সালে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরে আসার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যেদিন বাংলাদেশের মাটিতে পা দিয়েছি সেদিন থেকেই যে, আমি আমার মৃত্যুকে হাতে নিয়েই ফিরে এসেছি। বলতে গেলে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেই এসেছি। যে কোনো মুহূর্তে হয়তো আমাকে হত্যা করা হতে পারে, মারা যেতে পারি, সেটা জেনেই কিন্তু আমি এসেছি। তিনি বলেন, কেন এসেছি, তার কারণ হচ্ছে একটি স্বপ্ন, যে স্বপ্নটা জাতির পিতা দেখেছিলেন বাংলাদেশকে ঘিরে, দেশের মানুষকে ঘিরে। যে বাংলাদেশের মানুষকে তিনি সুখী-সমৃদ্ধশালী করবেন। তাদের জীবন উন্নত করবেন। দুঃখ দারিদ্র্যের হাত থেকে তাদের মুক্তি দেবেন।

এসএসএফের দরবারে বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসএসএফ’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতায় এসএসএফের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।