বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

১০ দাবিতে নৌ-শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৩:২৬

১০ দফা দাবিতে নৌ-শ্রমিকদের ডাকা কর্মবিরতির ফলে বরিশালে নৌ-যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শনিবার (২৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে এ কর্মবিরতি শুরু করে শ্রমিকরা।

রোববার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকে বরিশাল নদীবন্দরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন নদীবন্দর ও লঞ্চঘাট থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যাত্রীবাহী লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। এতে করে বিপাকে পড়েছেন নৌ-যাত্রীরা। অনেক যাত্রী ঘাটে এসে লঞ্চ চলাচল বন্ধ দেখে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে বন্ধ রয়েছে নৌ-যান চলাচল। ছবি: ইত্তেফাক

লঞ্চযাত্রী শিরিন বেগম বলেন, বাড়িতে যাওয়ার জন্য লঞ্চঘাটে এসেছি, কিন্তু লঞ্চ চলাচল তো বন্ধ। এখন অপেক্ষা করছি দুপুরের মধ্যে ছাড়ে কিনা। তা না হলে ভেঙে ভেঙে ট্রলারে করে যেতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক কবির হোসেন জানান, শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে সকাল থেকে বরিশাল নদীবন্দর থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।

বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশন বরিশালের সভাপতি আবুল হাসেম মাস্টার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে সারাদেশে এ কর্মবিরতি শুরু করেছে নৌ-শ্রমিকরা। ফলে গত রাত ১২টা থেকে সারাদেশের সাথে বরিশাল বিভাগে সকল ধরনের পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী নৌ-যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতির এ আন্দোলন লাগাতার চলবে।

নৌ-যান চলাচল বন্ধ থাকায় ছোট নৌকায় অনেকেই পারাপার হচ্ছেন। ছবি: ইত্তেফাক

বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশন ও নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আবু সাঈদ বলেন, শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে সারাদেশে তেলবাহী, বালুবাহীসহ সকল ধরনের পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী নৌ-যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা চাই, আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো মানা হোক। তবে এখন পর্যন্ত সরকারসহ কোনো পক্ষ থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়নি। আর আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।

শ্রমিকদের ১০ দফা দাবিগুলো: নৌ-যান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদানসহ শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ; খাদ্য ভাতা ও সমুদ্র ভাতার সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কন্ট্রিবিউটরি প্রভিডেন্ট ফান্ড ও নাবিক কল্যাণ তহবিল গঠন করা; দুর্ঘটনা ও কর্মস্থলে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা; চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে দেশের স্বার্থবিরোধী অপরিণামদর্শী প্রকল্প বাস্তবায়নে চলমান কার্যক্রম বন্ধ করা; বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের রাত্রিকালীন চলাচলের ওপর ঢালাও নিষেধাজ্ঞা শিথিল; নৌপথে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধ; ভারতগামী শ্রমিকদের লান্ডিং পাস প্রদানসহ ভারতীয় সীমানায় সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ; চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন নীতিমালা শতভাগ কার্যকর করে সকল লাইটারিং জাহাজকে সিরিয়াল মোতাবেক চলাচলে বাধ্য করা এবং চরপাড়া ঘাটে ইজারা বাতিল ও নৌ-পরিবহন অধিদফতরের সব ধরনের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা।

ইত্তেফাক/এসকে