রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চীনে বিক্ষোভ বাড়ছে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১০:২০

চীনে কঠোর করোনা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তিন দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (২৭ নভেম্বর) সাংহাইয়ে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশক আগে শি জিন পিং চীনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তারপর থেকেই চীনের মূল ভূখণ্ডে জনগণের অস্থিরতা নজিরবিহীন। তবে শূন্য কোভিড নীতি নিয়ে মানুষ ক্ষুব্ধ। তাছাড়া এই নীতি দেশের অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক কেন্দ্র শন জিয়ায় এক বিক্ষোভকারী বলেন, 'আমি এখানে এসেছি কারণ আমি আমার দেশকে ভালোবাসি। কিন্তু আমি সরকারকে ভালোবাসি না। আমি স্বাধীনভাবে বাইরে যেতে চাই, কিন্তু পারি না। আমাদের কোভিড-১৯ নীতি একটি খেলা ও এটি বিজ্ঞান বা বাস্তবভিত্তিক নয়।'

অর্থনৈতিক কেন্দ্র শন জিয়ায় বিক্ষোভ

রোববার উহান ও চেংডুতেও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমেছিল। বেইজিংয়ে ছোট ছোট সমাবেশে শান্তিপূর্ণ মোমবাতি প্রজ্বলন করা হয়। এছাড়া ছুটির দিনে চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে।

সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর উরুমকিতে একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের ভবনে আটকে পরার জন্য করোনা বিধিনিষেধকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে চীনা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর উরুমকিতে একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হয়েছেন

রোববার সাংহাইয়ের উলুমুকি রোডে ভারী পুলিশ উপস্থিতি ছিল। এর আগের দিন আগুনে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। 

২৬ বছর বয়সী সাংহাইয়ের এক বিক্ষোভকারী বলেন, 'আমরা শুধু আমাদের মৌলিক মানবাধিকার চাই। আমরা পরীক্ষা না করে বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। এখানের মানুষ সহিংস নয়। কিন্তু পুলিশ বিনা কারণে তাদের গ্রেপ্তার করছে। তারা আমাকে ধরার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমার চারপাশের লোকেরা আমার হাত জোরে ধরে পেছনে টান দেন যাতে আমি পালিয়ে যেতে পারি।'

 প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মানুষকে সাদা কাগজ নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

রোববার সন্ধ্যা নাগাদ এলাকায় শত শত মানুষ জড়ো হয়। পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয়। প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মানুষকে সাদা কাগজ নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

 

ইত্তেফাক/ডিএস