শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

এবার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীকে হত্যার পর ২২ টুকরো 

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৫:৩৬

দিল্লিতে শ্রদ্ধা ওয়াকারকে নৃশংস হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন একটি রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের তথ্য পেয়েছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। স্বামীকে খুনের অভিযোগে পুনম নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৮ বছর বয়সী আফতাব পুনাওয়ালা যেভাবে তার লিভ-ইন পার্টনার শ্রদ্ধা ওয়াকারকে হত্যা করেছিলো হত্যাকাণ্ডটি ঠিক সেরকম।

পুলিশ জানায়, পুনম তার স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে রয়েছে বলে অনেকদিন ধরে সন্দেহ করছিলেন। সন্দেহের জেরে ছেলের সহায়তায় স্বামীকে হত্যার পরে তিনি মৃতদেহটিকে ২২ টুকরো করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন। এরপর পূর্ব দিল্লির বেশ কয়েকটি এলাকায় মৃতদেহের টুকরা ফেলে দেন।

পুলিশ প্রথমে জুন মাসে পাণ্ডব নগরে মৃতদেহের অংশ খুঁজে পায় এবং একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। তবে মৃতদেহের টুকরাগুলো পচে যাওয়ায় তদন্ত এগোয়নি। এই মাসের শুরুতে যখন শ্রদ্ধা হত্যা মামলার জঘন্য বিবরণ সামনে আসতে শুরু করে অজ্ঞাত দেহের অঙ্গগুলো শ্রদ্ধার কি না তাও তদন্ত করা হয়েছিল।

তদন্তের সময় যেখানে মৃতদেহের অঙ্গগুলো পাওয়া গেছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ সেই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ স্ক্যান করে। ফুটেজে দেখা যায় পুনম ও তার ছেলে বেশ কিছু রাত ধরে পাণ্ডব নগরের ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত করার পর জানতে পারে যে পূর্ব দিল্লির পান্ডব নগরের বাসিন্দা অঞ্জন দাস প্রায় ছয় মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন। কিন্তু তার পরিবার থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি।

পুলিশ জানায়, জুন মাসে অভিযুক্ত পুনম ও দীপক অঞ্জন দাসকে হত্যা করেন। প্রথমে তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয় এবং অজ্ঞান করার পর তাকে হত্যা করা হয়। 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দীপক গভীর রাতে একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে হাঁটছেন। পুলিশ জানায়, লাশের টুকরোগুলো ফেলে দেওয়ার জন্যই দীপক রাতে হাঁটছিলেন। দিনের বেলার আরেকটি ফুটেজে দেখা যায় পুনম তাকে অনুসরণ করছেন। ধীরে ধীরে মৃতদেহের টুকরোগুলো ফেলে দিতে তারা বেশ কয়েকবার ঘুরেছেন।

ইত্তেফাক/কেএন/এএএম