ব্যাংকের সুদের হার হুকুম দিয়ে কমানো যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ব্যাংকের নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। অতীতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা করা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেনিয়া এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানও করতে গিয়ে পারেননি। যখন কেউ দোষ করে, তখন তাকে সাজা না দিয়ে সবাইকে শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়।
গতকাল শনিবার প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে হিসাববিদদের সংগঠন ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও ডেইলি স্টার আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরেন। প্রসঙ্গত, ব্যাংকের সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা থাকলেও তা অনেক ব্যাংকই কার্যকর করেনি।
ব্যাংকে সরকারি মূলধন ভালো উদাহরণ তৈরি করছে না উল্লেখ করে সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, এ কারণে অনেকে মনে করতে পারেন, খারাপ করলে সরকার তো আছেই। মূলধন যোগান দেওয়ার বদলে বরং দুই একটি ব্যাংককে মরে যেতে (দেউলিয়া হতে) দেওয়ার পক্ষে তিনি। খেলাপি ঋণ নিয়ে যেসব নিয়মকানুন করা হচ্ছে, তাতে তাত্ক্ষণিক কাগজে-কলমে কিছু সুফল মিললেও দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে হলে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে মনে করেন তিনি। এছাড়া ঋণখেলাপিদের ছবি ছাপিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দেন। তিনি বলেন, নেপাল ও চীনে ঋণখেলাপিদের বিদেশে যেতে দেওয়া হয় না। দ্রুতগতির ট্রেনে চড়তে দেওয়া হয় না। বাংলাদেশেও এরকম কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ও কারখানায় মূলধন দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্যাংকে এখন তারল্য সংকট চলছে। সরকার ৪৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলে বেসরকারি খাত ঋণ পাবে কোথায়?
ব্যাংক খাতের সংস্কারের জন্য ব্যাংক কমিশন গঠন প্রসঙ্গে এম এ মান্নান বলেন, ব্যাংকিং কমিশনের দরকার নাই। এই কমিশনের মাধ্যমে বলা হবে গাড়ি, বাড়ি, টাকা দাও। এটা তাদের চাকরি ছাড়া কিছু হবে না। এই কমিশন সম্বন্ধে আমার সন্দেহ আছে। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, আইসিএবির সভাপতি এ এফ নেসারউদ্দিন, বিআইডিএসের সিনিয়র গবেষণা ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। এতে বাজেট নিয়ে দুটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন আইসিএবির কাউন্সিল সদস্য শাহাদাত হোসেন ও স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
