শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নগদ আয়োজনে ঢাবিতে বিশ্বকাপ উৎসব

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৯:০৪

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শরীফ চৌধুরীর এটা তৃতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংষ্কৃতি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন। ফলে কাকতালীয় ভাবে এক বিশ্ববিদ্যালয়েই তিনটে বিশ্বকাপ পেয়ে গেছেন। আগের দুটো বিশ্বকাপ দেখেছেন কখনো হলের টিভি রুমে, কখনো প্রজেক্টরে। কিন্তু এবারের মত অবিশ্বাস্য অনুভূতি কখনো হয়নি। 

হাজার লোকের ভিড়ে দাড়িয়ে একটু জোরে সোরেই বললেন, ‘মনে হচ্ছে, কাতারে আছি। মনে হচ্ছে, ফিফার কোনো ফ্যান জোনে বসে খেলা দেখছি। আমার কাতার যেতে না পারার দুঃখ ঘুচিয়ে দিয়েছে এার নগদ।’

হ্যা, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস নগদ-এর আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছে যেনো এক টুকরো কাতার।  

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ভেন্যুতে জায়ান্ট স্রি  নে খেলা দেখার ব্যবস্থা করেছে নগদ। ভেন্যু তিনটি হলো-টিএসসি, সোপার্জিত স্বাধীনতা ও মহসিন হলের মাঠ। এর মধ্যে মহসিন হলের মাঠে খেলার দেখার আয়োজন নিয়ে আন্তর্জাতিক হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে। বিশ্বের নামকরা সব সেলিব্রিটিরা এই মাঠের ছবি পোস্ট করছেন টুইটার, ফেসবুকে। 

মহসিন হলের মাঠে গিয়ে মনে হলো এ আসলেই সোরগোল তোলার এক অবস্থা। হাজার হাজার মানুষ শরীরে শরীর মিশিয়ে মেক্সিকান ওয়েভ তৈরি করছেন, একসাথে চিৎকার করছেন, গোল মিস হলে মাথায় হাত দিচ্ছেন এবং গোল হলে পুরো শহর কাঁপিয়ে দিচ্ছেন। 

মহসিন হলের মাঠে আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখেছেন উর্দু বিভাগের মাস্টার্স পড়ুয়া আহনাফ সাঈফ খান। তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের জন্য তো টেনশনের ম্যাচ ছিলো। জিততেই হতো। গোল না হওয়ায় খুব মনকষ্টে ছিলাম। যেই মেসি গোল দিলো, মনে হলো একেবারে কাতারের মাঠেই বসে আছি। এতো বড় গর্জন আমি আমার জীবনে শুনিনি। নগদকে ধন্যবাদ আমাদের এভাবে উৎসব করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।’

নগদকে কেনো ধন্যবাদ দেওয়া উচিত, সেটা আরেকটু বিস্তারিত করে বলছিলেন শরীফ চৌধুরী, ‘বিজ্ঞাপনের জন্য তো সবাই কাজ করে। কিন্তু এভাবে সবার ভালোবাসা ও উৎসবকে এগিয়ে দেওয়ার জন্য তো সব প্রতিষ্ঠান কাজ করে না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পরিবার থেকে আলাদা থাকি। আমাদের সবার একসাথে খেলা দেখার সুযোগ করে দেওয়াটা আসলেই বড় একটা কাজ।’

শরীফের সাথেই ছিলেন তার বন্ধু মোহাম্মদ নবীর হোসাইন। তিনি বলছিলেন, এই বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনটা আসলে একটা উৎসবের পরিবেশ সৃষ্ঠি করেছে। এতে বিশ্বকাপটা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন হয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। নবীর বলছিলেন, ‘আমি থাকি এফ রহমান হলে। অন্য কোনো বিশ্বকাপে এভাবে হলের বাইরে সবার সাথে মিশে খেলা দেখা হতো না। এবা এই বড় আয়োজনের কারণে আমাদের পুরো বিশ্ববিদ্যালয় একটা পরিবারের মত হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে মাস জুড়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো একটা উৎসব হচ্ছে।’

এই উৎসবটা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছেন আহনাফ। তিনি ঘুরে ঘুরে খেলা দেখছেন। এক মাঠেই যে থাকছেন, তা নয়। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার ম্যাচ মহসিন হলের মাঠে দেখছেন। কিন্তু বাকী ম্যাচগুলোতে কখনো টিএসসি, কখনো সোপার্জিত স্বাধীনতা গ্রাউন্ডে থাকছেন তিনি। 

তার কাছে পুরো ব্যাপারটা একটা বিশ্বকাপ মেলার মত। তিনি বলছিলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে একটা ঘোরের মধ্যে আছি। কখনো বিশ্বকাপ ভেন্যুতে গিয়ে খেলা দেখবো, এটা আশা করিনি। কিন্তু এবার মনে হচ্ছে, না চাইতেই সেই সুযোগটা পেয়ে গেছি। আমি একটা ম্যাচও তাই মিস করছি না।’

এই পুরো আয়োজনটা নগদ-এর বিটিএল টিমের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নগদ-এর চিফ বিজনেস অফিসার শেখ আমিনুল ইসলাম বলছিলেন, ‘নগদ সবসময় তারুন্যের কথা বলে, নতুন কিছুর কথা বলে, উৎসবের কথা বলে। বিশ্বকাপটা আমাদের দেশে বিশেষ করে তরুনদের জন্য একটা উৎসবের মত ব্যাপার। আমরা সেই উৎসবে অংশ হতে চেয়েছি। চেয়েছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনরা যেনো বিশ্বকাপের মাঠে বসে খেলা দেখার ফ্লেবারটা পান। সেটা একটু হলেই আমাদের উদ্যোগ সার্থক।’

ইত্তেফাক/এএইচপি