শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মুসলিম ছাত্রকে 'সন্ত্রাসী' বলায় অধ্যাপক বরখাস্ত

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৭:০৭

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে এক মুসলিম ছাত্রকে 'সন্ত্রাসী' বলার জন্য এক অধ্যাপককে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) ভারতের মানিপাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে এ ঘটনা ঘটে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অধ্যাপক যখন শিক্ষার্থীকে 'সন্ত্রাসী' বলেন তখন ছাত্রটি এর প্রতিবাদ করেন। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। 

শুক্রবার প্রথমে ওই ছাত্রের নাম জিজ্ঞেস করেন অধ্যাপক। ছাত্রটি তার নাম বলার পর অধ্যাপক তাকে সন্ত্রাসীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, 'তুমি কাসাবের মতো!' মুম্বাইয়ে ২৬/১১ হামলায় ধরা পড়া পাকিস্তানি সন্ত্রাসী আজমল কাসাবের সঙ্গে অধ্যাপক ছাত্রটিকে তুলনা করেন। 

মুম্বাইয়ে ২৬/১১ হামলায় ধরা পড়া পাকিস্তানি সন্ত্রাসী আজমল কাসাবের সঙ্গে অধ্যাপক ছাত্রটিকে তুলনা করেন। 

অধ্যাপকের কাছ থেকে এ কথা শোনার পর শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ করে বলেন, 'আপনি এ ধরনের কথা কীভাবে বলেন?' এর জবাবে ওই অধ্যাপক জানান, তিনি কৌতুক করে এ কথা বলেছেন। এ কথার প্রতিবাদ করে ওই শিক্ষার্থী তখন জানান, তাকে সন্ত্রাসীর সঙ্গে তুলনা করে তিনি তার ধর্মের অবমাননা করেছেন।

শিক্ষার্থীটি বলেন, '২৬/১১ কোনো কৌতুক ছিল না। এ দেশে মুসলিম হিসেবে প্রতিদিন এসবের মুখোমুখি হওয়া কৌতুকের বিষয় নয়, স্যার। আপনি আমার ধর্ম নিয়ে কৌতুক করতে পারেন না, বিশেষ করে এভাবে অবমাননাকর হিসেবে।'

এরপর অধ্যাপক তার কথার জন্য ক্ষমা চাইলেন। তিনি বলেন, 'তুমি আমার ছেলের মতো।' তখন শিক্ষার্থী বলেন, 'আপনি কি আপনার ছেলের সঙ্গে এভাবে কথা বলেন? তাকে কি আপনি সন্ত্রাসী নামে ডাকেন?'

অধ্যাপক তখন বলেন, 'না'। তখন শিক্ষার্থী বলেন, 'তাহলে কীভাবে আপনি এত শিক্ষার্থীর সামনে আমাকে এভাবে বলতে পারেন। আপনি একজন পেশাদার ব্যক্তি। আপনি শিক্ষা দিচ্ছেন। দুঃখ প্রকাশ করে আপনি কীভাবে চিন্তা করেন বা নিজেকে কীভাবে উপস্থাপন করেন তা কখনোই পরিবর্তন করা যাবে না।'

অধ্যাপককে তখন ক্ষমা চাইতে শোনা যায়। এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা এ কথোপকথন নীরবে শুনেছেন। এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অধ্যাপককে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া পুরো ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীকে কাউন্সেলিং করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

 

 

ইত্তেফাক/ডিএস