রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঈশ্বরদীর জেল খাটা কৃষকদের ঋণ মওকুফ ও মামলা প্রত্যাহারের আবেদন

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৩৩

জামিনে মুক্ত হয়ে ৩৭ কৃষকের পক্ষে ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজিচাষি সমবায় সমিতির সভাপতি মঙ্গলবার ( ২৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের কাছে ঋণ মওকুফ ও মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। ঋণের মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়ার পর কৃষকরা আবারও শীতকালীন সবজির মাঠে কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজিচাষি সমবায় সমিতির সভাপতি বিলকিস নাহার জানান, দুপুরের দিকে পাবনা শহরের এলএমবি মার্কেটে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকে হাজির হয়ে ঋণ মওকুফ ও মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জমা দিয়েছেন। পাবনা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক কাজী জসিম উদ্দীন জানান, আবেদনটি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে।

আবেদনে সভাপতি বিলকিস নাহার বলেন, ঋণ গ্রহীতারা সকলে প্রান্তিক কৃষক। ৪০ জন কৃষক ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজিচাষি সমিতির নামে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক থেকে ১৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে সুদসহ ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও ৪০ জন কৃষকের মধ্যে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে ঋণ ও ঋণের সুদের মামলা হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে এসব কৃষকের সবাই ক্ষতিগ্রস্থ। ঋণ ও ঋণের সুদের টাকা তাঁদের পক্ষে পরিশোধ করা এবং তাঁদের পে মামলা চালানোও সম্ভব নয়। একারণে কৃষকরা ঋণ মওকুফ ও মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি করছেন।

বিলকিস নাহার বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আবেদনটি সদয় দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করছি। অন্যের জমি ইজারা নিয়ে সামান্য সবজি চাষ করে এসব কৃষকের জীবন চলে। কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটান। প্রান্তিক কৃষকদের পক্ষে ঋণ ও সুদের ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়। একারণেই আবেদন করা হয়েছে।

সমবায় ব্যাংক পাবনার ব্যবস্থাপক কাজী জসিম উদ্দীন জানান, সমিতির ঋণগুলো মূলত এক বছর মেয়াদি। প্রত্যেক মাসে কিস্তির মাধ্যমে কৃষকেরা টাকা পরিশোধ করেন। প্রতি মাসে তাঁদের কাছে যাওয়া হয়। কৃষকেরা টাকা না দিলে যাওয়া কমে যায় এবং ঋণখেলাপি হন। পরবর্তীতে ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী মামলা হয়। এক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন।

ইত্তেফাক/ইআ