রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কাতার বিশ্বকাপ 

দেশের হারে উদযাপন, ইরানে একজনকে গুলি করে হত্যা     

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮:৫৫

কাতার বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে যাওয়ার পর দলের বিদায় উদযাপন করায় এক ইরানি ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তিকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। কাতার স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে এবং ইরানজুড়ে যখন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল তখন এই ঘটনা ঘটলো। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তি হলেন ২৭ বছর বয়সী মেহরান সামাক। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, তেহরানের উত্তর-পশ্চিমে কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলে অবস্থিত বন্দর শহর আনজালিতে তাকে গুলি করা হয়। গাড়িতে হর্ন দিয়ে উদযাপন করার সময় তাকে গুলি করা হয়। 

নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বলেছে, আমেরিকার বিপক্ষে ইরানের পরাজয়ের পর সামাককে সরাসরি লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।

বন্দর আনজালির বাসিন্দা ইরানের আন্তর্জাতিক মিডফিল্ডার সাইদ এজাতোলাহি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে খেলেছেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে সামাকের সঙ্গে যুব ফুটবল দলের একটি ছবি পোস্ট করে বলেন, তিনি সামাককে চিনতেন। 

সামাককে শৈশব সতীর্থ হিসেবে বর্ণনা করে ইনস্টাগ্রামে ইজাতোলাহি বলেন, গত রাতের তিক্ত ক্ষতির পর তোমার চলে যাওয়ার খবর আমার হৃদয়ে আগুন ঝরিয়েছে।

মঙ্গলবার নির্বাসিত ইরানি সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদ টুইটারে উদযাপনের ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ইরান এমন একটি দেশ যেখানে মানুষ ফুটবলের প্রতি খুব আবেগপ্রবণ। এখন তারা সানন্দাজ শহরের রাস্তায় নেমেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তাদের ফুটবল দলের হার উদযাপন করছে। তিনি মাশা আমিনির নিজ শহর সাক্কেজে আতশবাজি ছাড়ার একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলেছে,  ইরানিরা পশ্চিম ইরানের কুর্দি জনবহুল অঞ্চল মারিভানেও উদযাপন করেছে। মারিভানে ২১ নভেম্বর নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা জোরদার করে। তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালায় এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় এক ডজন লোককে হত্যা করে।  

দোহার স্টেডিয়ামের বাইরে ভক্তরা বিক্ষোভ এবং ইরান সরকারের দমন পীড়ন তুলে ধরার পর এই উদযাপন শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ইরানি স্যাম রয়টার্সকে বলেন, সকলেরই এই বিষয়ে জানা উচিত। ইরানে আমাদের কোনো শক্ত আওয়াজ নেই।

ইত্তেফাক/এসআর