বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

অসময়ে খেপেছে ইছামতি, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:০০

নদীর নাম ইছামতি। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ক্ষীণ স্রোতধারার এ নদী বর্তমানে খালের রূপ ধারণ করেছে।  কিন্তু অসময়ে যেন ক্ষেপে উঠেছে বিগত যৌবনা ইছামতি।  দুই পাড়ে দেখা দিয়েছে মাটি ভাঙন। উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের হিজুলিয়া, বড় রামকান্তপুর ও কুঠিবাড়ী এলাকায় অসময়ের এ ভাঙন  আতঙ্কে বসবাস করছে শতাধিক পরিবার। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ ভাঙনে বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আর জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বার বার অবগত করার পরও দীর্ঘমেয়াদি এই ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর এগিয়ে আসেনি।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের বর্ষায় ইছামতি নদীতে ভাঙন শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে ভেঙেই চলছে দুই পাড়। ইছামতির তীরবর্তী এলাকার পূর্বপাড়া আব্দুল আওয়াল দর্জির বাড়ি থেকে নুরু প্রধানের বাড়ি পর্যন্ত ইতিমধ্যে কমপক্ষে ৩০টি বসতবাড়ি ভাঙনের শিকার হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে কমপক্ষে ৬০টি পরিবার। দিশেহারা ঐ এলাকার ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এছাড়াও এ নদীর ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে বড় রামকান্তপুর-কুঠিবাড়ী এলাকায় আরও ৪০টি পরিবার। ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার অন্যত্র সরে নতুন বাড়ি করার মতো সামর্থ্য নেই। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে পদক্ষেপ না নিলে আরও অনেক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। হিজুলিয়া গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে গত নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের কাছে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়। কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে অনুলিপি দেওয়া হয় জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও।

বড়টিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. সামছুল হক মোল্লা রওশন বলেন, ‘হিজুলিয়া পূর্বপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের তীব্র নদী ভাঙনের কথা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা করা হয়েছে। দুঃখের বিষয় আমার জানা মতে ভাঙন শুরুর এত দিন অতিবাহিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা ভাঙন এলাকায় আসেননি এবং ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই। ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ঐ এলাকার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হবে।’ ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রমজান আলী বলেন, এই ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে ১০০টির মতো পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বর্ষা মৌসুমে ইছামতি নদীর ভাঙনে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন গরুর হাটের অধিকাংশ জায়গা, বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি, ঘিওর-গোলাপনগর রাস্তা, কুস্তা বেইলি ব্রিজ। মানিকগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন জানান, বর্ষা মৌসুমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু হয়েছে। এখন অসময়ে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে হিজুলিয়ার ইছামতি নদীর ঐ ভাঙন এলাকা অফিসের একজন প্রকৌশলী পরিদর্শন করেছেন। বন্যায় জরুরি ভাঙনের বাজেট গত ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে গেছে তাই বাজেট পেতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। তবে ঐ এলাকার ভাঙন প্রতিরোধের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বাজেট পাঠানো হয়েছে। বাজেট এলেই দ্রুত ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘এ নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার বর্ষা মৌসুম থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবগত করেছি।’

ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুর রহমান বলেন, ঐ এলাকার ভাঙন সম্পর্কে তিনি অবগত। তার প্রতিনিধিগণ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন, তিনিও এলাকায় যাবেন। এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন তিনি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙন প্রতিরোধে সার্বিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএএম