রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাজশাহীতে এবার অটো ও থ্রি হুইলার ধর্মঘট

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮:১৬

রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের পর এবার অনিদিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে সিএনজিচালিত অটো ও থ্রি হুইলার মালিকরা।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে হঠাৎ করেই এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি হুইলার মালিক সমিতির সভাপতি আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ধর্মঘটের কারণে রাজশাহী-বাগমারা-তানোরসহ সংলগ্ন নওগাঁ জেলার যাত্রীরা দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের চাপে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। বাস ধর্মঘটের কারণে ছোট ছোট যানবাহনে করে গণসমাবেশের উদ্দেশ্যে আসছিলেন নেতাকর্মীরা। এ কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি হুইলার ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা অভিযোগে বলেন, শনিবারের গণসমাবেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের পথে পথে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তারপরও নেতা-কর্মীদের রাজশাহীতে আগমন বন্ধ করা যায়নি।

পরিবহন ধর্মঘট চলায় বহু নেতা-কর্মী আগে থেকেই সমাবেশস্থলে চলে আসেন। ছবি: ইত্তেফাক

এদিকে, বিএনপির গণসমাবেশকে সামনে ধর্মঘট কোনো বাধা হয়নি, বরং ফাঁকা সড়কে বিভাগীয় গণসমাবেশে যোগ দিতে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে রাজশাহী ঢুকছেন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল বহর রাজশাহীতে ঢুকতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালের দিকে নওগাঁর মান্দা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রাজশাহী আসেন। এছাড়াও বগুড়া থেকে একটি বিশাল মোটরসাইকেলের বহর রাজশাহী পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। বগুড়া থেকে আগত বহরটিতে প্রায় এক হাজার মোটরসাইকেল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির নেতারা। তবে পথে পথে তল্লাশির নামে পুলিশের বাধা ও মাঝপথ থেকে বহরটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন তারা।

পরিবহন ধর্মঘট চলায় বহু নেতা-কর্মী আগে থেকেই সমাবেশস্থলে চলে আসেন। ছবি: ইত্তেফাক

উল্লেখ্য, মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে গত বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিভাগের ৮ জেলাজুড়ে পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছে রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহন মালিক সমিতি। শুক্রবার ছিল চলমান পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন।

তবে পরিবহন নেতারা বলছেন, এটি তাদের ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। এর সঙ্গে বিএনপির গণসমাবেশের সম্পর্ক নেই।

মোটরসাইকেলে রাজশাহীতে আসা বগুড়া জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতারা অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকাল ১০টায় বগুড়া থেকে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তারা রওনা দেন। বগুড়া শহরের চারমাথা সেঞ্চুরি মোটেলের সামনে পুলিশ বহরটিকে আটকে দেয়। প্রথমে থামতে না চাইলে পুলিশ মারমুখী হয়ে কয়েকজন চালককে লাঠিপেটা করে। ভাঙচুর করে ছয়-সাতটি মোটরসাইকেল। এ সময় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তর্ক হয়। শেষে কাগজপত্র তল্লাশির নামে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। জব্দ করা হয় মোটরসাইকেল। বাকি মোটরসাইকেল চারমাথা অতিক্রম করলেও পথে পুলিশের তল্লাশিচৌকির মুখে পড়তে হয়।

পরিবহন ধর্মঘট চলায় নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেল বহরে গন্তবে ছুটছেন। ছবি: ইত্তেফাক

মোটরসাইকেল বহরে নেতৃত্ব দেওয়া বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, বহরে প্রথমে ১ হাজার ৮০০ মোটরসাইকেল যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চারমাথায় জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ আগে থেকেই বহর আটকে দেওয়ার জন্য অবস্থান নেয়। নেতা-কর্মীরাও গ্রামীণ সড়ক দিয়ে বিকল্প পথে খণ্ড খণ্ড বহর নিয়ে রাজশাহী পৌঁছার কৌশল নেন।

পুলিশের দাবি, কাউকে হয়রানি উদ্দেশ্যে নয়, নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবেই তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। সেখানে কে কোন দল করে, সেটা দেখার বিষয় নয়। যেসব মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি, শুধু সেসব মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। অন্যদের কাগজপত্র তল্লাশি করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওই বহরের ১৪-১৫টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জব্দ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসকে