মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় নারী 

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১৫:১৪

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি সংস্কৃতিকে কখনোই খুব ভালো দৃষ্টিতে দেখেনি। তাদের ধারণা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের মুসলিম জনগোষ্ঠী হিন্দুধর্মের আচার বিধি দ্বারা প্রভাবিত হবে। রাও ফরমান আলীর ‘বাংলাদেশের জন্ম’ গ্রন্থে প্রকাশিত একটি পোস্টারে তার প্রতিফলন প্রকাশ পায়। তত্কালীন সময়ের সমাজ ব্যবস্থায় রক্ষণশীলতার আভাস পাওয়া যায়। একাত্তরে নারী পুরুষের পার্থক্য ছিল ব্যাপক। মেয়েদের বেশির ভাগ পর্দার আড়ালে থাকতে হতো। পরিবারে নারীদের মতামত নেওয়ার প্রথা ছিল না। উচ্চবিত্ত এবং শহরের কিছু সংখ্যক মেয়েই শুধু মাত্র প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করতেন। ১৮৮১ সালের আদমশুমারিতে প্রকাশ পায় বাংলায় সাত কোটি লোকসংখ্যার অর্ধেক মুসলমান। এই আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী পরিলক্ষিত হয় যে, বাংলার জনসংখ্যার একটি বৃহত্তর অংশ ছিল মুসলিম সমাজ। ঊনবিংশ শতাব্দীতে হিন্দু নারীরা পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সমাজ সংস্কারমূলক কাজ শুরু করে। অথচ মুসলিম নারী সমাজ আধুনিক চিন্তাধারায় অনুপ্রবেশ না করে নিজেদের পশ্চাত্পদ, কুসংস্কার, সনাতন পদ্ধতিতে গড়ে তুলেছে। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিবারের বিবাদ দ্বন্দের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে বাংলার নারীরা প্রত্যেকে একে অপরের সহযোগী হয়ে নিজ দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য সহযোগিতা করেছে। তবে নারীদের এই অবদানকে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শহীদজননী, মুক্তিযোদ্ধার মা, বোন, সঙ্গী, ধর্ষিতা বা সম্ভ্রমহারা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কয়েক দশকে মুক্তির সংগ্রামে নারীর অবদান নিয়ে স্বল্প পরিসরে কিছু গবেষণা হলেও সেখানে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ইতিহাসে নারীর অবদান ত্যাগ উপেক্ষা করে গেছেন। 

মুক্তির সংগ্রামের সাহিত্য চর্চায় পুরুষকে বীর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় সে, চলচ্চিত্র, সংগীত, সাহিত্য, গল্প, রচনাবলীতে অস্ত্র হাতে দেশরক্ষার ভূমিকায় পুরুষদের বীর হিসেবে দেখানো হয় আর নারীকে দেখানো হয় ধর্ষিতা হিসেবে। এখানে বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে পুরুষের যুদ্ধে যোগদান করার পেছনে অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগিয়েছে নারীরা। নারীরা যদি সংসারের সমগ্র দায় দায়িত্ব নিজের কাঁধে না নিতেন তবে কোন পুরুষই যুদ্ধক্ষেত্রে চিন্তা মুক্ত ভাবে যুদ্ধ করতে পারতেন না। পরিবারের রক্ষার দায় দায়িত্ব পুরুষের ওপর বর্তাতো। একাত্তরে বাংলার নারীরা একই সাথে নিজেদের ঘর সামলানোর সাথে সাথে অন্যান্য কাজ ও করছে যেমন: বাজার করা, পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে থাকা, ঘরের বাইরে মাটির বাঙ্কার নির্মাণ, আশ্রয়দানকারী, সেবাদানকারী, মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার জন্য এলাকার মানুষকে সংগঠিত করা ইত্যাদি। মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী যদি বহুমাত্রিক দায় দায়িত্ব এড়িয়ে যেতো তবে বাংলার স্বাধীনতা শুধু মাত্র নয় মাস যুদ্ধের মাধ্যমে লাভ করা সম্ভব ছিল না। এই রক্তপাতের সংগ্রাম আরোও দীর্ঘায়িত হতো। 

পৃথিবীতে যে সব যুদ্ধ হয়েছে তাতে নারীর অংশগ্রহণের দিক বিশ্লেষণ করলে পরিলক্ষিত হয় যে, শুধু বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামেই নয় বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশের যুদ্ধে নারীরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ফ্রান্স জার্মানির দখলে যাওয়ার পর সেখানেও প্রতিরোধ যুদ্ধে শুরু হয় এবং সেই যুদ্ধে নারীরা বহুমাত্রিক ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীরা শুধু মাত্র প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছে এমনটা নয়, ভূমিকা রেখেছে পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধ করতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করতে, অস্ত্র-বোমা তৈরি করে, ঔষুধ, খাদ্য, বস্ত্র, সংগ্রহ করে তা আবার মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রদান করে, চিকিত্সা সেবা প্রদান, আশ্রয় প্রদান করে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধচলাকালে নারীরা যদি অসামান্য অবদান না রাখতো তবে যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধারা যেসব পরিস্থিতির শিকার হতেন তা হলো-

•    বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা শুধু মাত্র তাদের নিজ এলাকা অথবা জেলায় যুদ্ধ করেননি। ভারত থেকে ট্রেনিং গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের রাস্তা ঘাট ছিল তাদের অপরিচিত। এই অপরিচিত রাস্তা ঘাটে চলাচল করার সময় গ্রাম বাংলার নারীরাই পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। নারীরা যদি এই পথ প্রদর্শকের ভূমিকা না পালন করতো তবে মুক্তিযোদ্ধারা যথা স্থানে দ্রুত সময় পৌঁছাতে পারতেন না এতে যুদ্ধ দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকতো।

•    মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নারীরা গোপন চিঠিপত্র, তথ্য আদান প্রদান করেছে। একটি যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে তথ্য। এই তথ্য ও চিঠিপত্র আদান যুদ্ধের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। কেননা এই চিঠি বহনের সময় রাজাকার অথবা পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা খেলে মৃত্যু নিশ্চিত ছিল। তা জেনেও বাংলার নারীরা এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি সাহসিকতার সঙ্গে পালন করেছেন। এই দায়িত্ব নারীরা না পালন করলে যুদ্ধে নিয়ম নীতি, নকশা, কখন কোথায় আক্রমণ হবে, যুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবহৃত সংকেত সম্পর্কে সব মুক্তিযোদ্ধাদের ধারণা থাকতো না ফলে যুদ্ধে বিজয় লাভ ছিল অসম্ভব।

•    যুদ্ধচলাকালে এর স্থায়িত্ব কেউ ধারণা করতে পারতো না। গেরিলা আক্রমণগুলো সাধারণত এক দুই ঘণ্টা আবার কখনো চার পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী হতো। অনেক যুদ্ধ দুই থেকে চারদিন ব্যাপীও হয়েছে। এই সময়ে গোলাবারুদ, অস্ত্র, মাইন ইত্যাদির সংকট দেখা দিলে মজুদকরা অস্ত্র নারীরা শাড়ির আঁচলের নিচে, ঘরে থাকা প্যাকেটের ভেতরে নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যেতেন। অস্ত্র সরবরাহ ও সংরক্ষণ করেছেন গ্রামীণ নারীরা। এই দায়িত্ব নারীরা না পালন করলে অস্ত্র ও গোলাবারুদের স্বল্পতায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়তো। যুদ্ধে শহীদ হতো অনেক মুক্তিযোদ্ধা।

•    মানবতাবোধ নারীর এক সহজাত প্রবৃত্তি। এই প্রবৃত্তির বিভিন্ন সংকটজনক মুহূর্তে নারীকে জাতির পাশে দৃঢ়তার সঙ্গে দাঁড়াতে সহযোগিতা করেছে। নারীরা সেবা দিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্থ করে তুলেছেন। সেবার পাশাপাশি কখনো নারীরা যোদ্ধাদের শরীর থেকে গুলি বের করেছে এবং সেই স্থানে ভেষজ পাতার প্রলেপ দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন। যোদ্ধার বিভিন্ন অসুখ নিরাময়ের জন্য পাশে থেকেছেন। নারীরা সেবিকা হিসেবে অবদান না রাখলে যুদ্ধক্ষেত্রে অধিকাংশ যোদ্ধাই গুলিবিদ্ধ হয়ে পরে থাকতেন। চিকিত্সার অভাবে মারা যেতেন। পরবর্তীতে অসুস্থ অবস্থায় অন্যান্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের তুলনায় পাকিস্তান বাহিনীর সংখ্যা বেশি ছিল। এবং তারা ছিল অধিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। এমনিতেও যোদ্ধার সংকট ছিল তার মাঝে যদি আবার আহত যোদ্ধারা যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ করতে না পারেন তবে যোদ্ধার সংকট দেখা দিতো। বিজয়ের পথ দীর্ঘায়িত হতো।

•    যুদ্ধকালীন গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মধ্যে একটি হচ্ছে খাদ্য। যুদ্ধের আগে বা পরে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবারের যোগান দিয়েছেন নারীরা। হাঁড়ির সর্বশেষ খাবারটুকু যোদ্ধাদের প্রদান করতে দ্বিধাবোধ করেননি নারীরা। যুদ্ধে খাবারের ব্যবস্থা নারীরা না করেলে হয়তো শারীরিকভাবে যোদ্ধারা অংশ নিতে পারতেন না। শরীর দুর্বল হয়ে পরতো। 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারীর অংশগ্রহণ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় তা সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক পরিক্রমা। ব্রিটিশ শাসনকাল থেকে পাকিস্তান সময় পর্যন্ত সব আন্দোলনে নারীরা অংশগ্রহণ করেছেন, প্রয়োজনে অস্ত্র হাতে নিয়েছেন। ১৯৭১ সালের মার্চ-ডিসেম্বর পর্যন্ত সব সশস্ত্র যুদ্ধ থেকে শুরু করে নানা পরিস্থিতিতে নারীর অংশগ্রহণ ছিল। যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে নারীরা যুদ্ধেক্ষেত্রে যুদ্ধ করারা পাশাপাশি বহুমাত্রিক দায়িত্ব পালন করে বিজয়ের পথকে সহজ করেছেন। যুদ্ধে নারীরা হারিয়েছেন তাদের প্রিয়জন, স্বামী, বাবা, সন্তান, মা আবার অনেকে হারিয়েছেন নিজ ভিটা মাটি, অনেক নারী সম্ভ্রম হারিয়েছেন। তবুও নারীরা থেমে থাকেননি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করে গেছেন। নারী মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ থেকে উপলব্ধি করা যায় যে, সমাজের বাধা ভেঙে কীভাবে তত্কালীন অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন তারা, কীভাবে নয় মাস বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত ছিলেন। 

মুক্তিযুদ্ধ নারী পুরুষ উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠার কারণেই সফল জনযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী বিজয়ের ইতিহাসকে যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে সেভাবে নারীর অংশগ্রহণকে মূল্যায়ন করা হয়নি। আবার বিভিন্ন গ্রন্থে অস্ত্র হাতে নারীরদের কথা, ঢাকার নারীদের অবদান, বারবার উঠে এলেও গ্রামাঞ্চলের আনাচে কানাচের নারীদের অবদানের কথা কোথাও লিপিবদ্ধ করা হয়নি। অথচ গ্রামেগঞ্জের নারীদের রয়েছে ১৯৭১ এর নানা স্মৃতি। এই স্মৃতি সংগ্রহের কাজে মাঠ জরিপে তাদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে এলাকার যুদ্ধকালীন সময়ের চিত্র। যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনালোচিত এক অধ্যায়। 

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে সংগঠিত মুক্তিযুদ্ধকে সাম্প্রতিকালে জনযুদ্ধ হিসেবে আলোচনা বা গ্রন্থায়নের প্রবণতা বৃদ্ধি পেলেও নারীর অংশগ্রহণ ও নারীর ভূমিকা নিয়ে আলোকপাত করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয় না। একাত্তরের ইতিহাস রচনার মূল ধারায় নারীদের সংযোজিত করা হয়নি বরং একজন নারীকে প্রদর্শন করা হয়েছে ‘ধর্ষিতা নারী’ হিসেবে বা ‘মুক্তিযোদ্ধার মা’ হিসেবে। আর যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা স্মৃতিচারণ মূলক কথ্য ইতিহাস। 

মুক্তিযুদ্ধে নারী নিয়ে একাডেমিক পর্যায়ে গবেষণারও স্বল্পতা রয়েছে। আবার ইতিহাস রচনায় দেখা যায় কিছু সংখ্যক নারীর কথার বিভিন্ন সংগঠকের স্মৃতিচারণ থেকে সংগ্রহ করে বারবার লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের তথ্য উঠে আসেনি। তবে বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাস চর্চাকে নতুন ভাবে দেখা যায় কি না এই নিয়ে অনেক গবেষক কাজ করে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মুনতাসীর মামুন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যখন বর্ণিত হয় তখন শুধু মাত্র সম্মুখ যুদ্ধগুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। গেরিলাযুদ্ধের প্রতি তেমন গুরুত্ব আরোপ করা হয় না। ১১টি সেক্টরে যে যুদ্ধ হয়েছিল অন্তিমে সেটিই হয়ে দাঁড়ায় ইতিহাসের কাঠামো। ইতিহাসে বাংলাদেশের গঠিত মুজিব নগর সরকারের ভূমিকা, ছাত্র-কৃষক-শ্রমিক-সাধারণ মানুষের জনযুদ্ধের কথা ইতিহাসে উঠে আসেনি, মুক্তিযুদ্ধের নারীর অবদান, বেসামরিক ব্যাক্তির ভূমিকা, বিদেশি সিভিল সমাজের ভূমিকা, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, শরণার্থী সমস্যা অস্পষ্ট যা বারবার ১১ টি সেক্টরের যুদ্ধের ইতিহাসের আলোকে ব্যাখ্যার মাধ্যমে চাপা পড়ে যায়। বর্তমান সময়ে প্রয়োজন এই বিষয় গুলোকে নজরে এনে বিবরণ তৈরি করে পর্যালোচনা করা।

ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা সংগ্রাম, ঊনসত্তরের গণআন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলনে নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। নারীর অংশগ্রহণকে ইতিহাসে সংরক্ষণের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সুকুমার বিশ্বাস সম্পাদিত কুমিল্লা-কামালপুর খন্ড মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র থেকে ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই খন্ডে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত নানা ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণ প্রকাশ হলেও নারীদের স্মৃতিচারণ প্রকাশ পায়নি। পরবর্তীতে এসব দলিলের অপূর্ণাঙ্গতা মেটাতে বিভিন্ন নারী লেখকরা বই লিখেছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের বিবরণ প্রতিষ্ঠিত রীতিবদ্ধমূলক কাঠামোতে নারীদের অবদান রচনা করা হয়নি। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নারীদের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করলে উঠে আসতো গ্রাম বাংলার নারীদের কষ্টের কথা। বর্তমানে নারীদের ইতিহাস জনসম্মুখে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছেন অনেকেই। এতে করে মুক্তিযুদ্ধ চর্চাকে এক নতুন রূপরেখায় অঙ্কিত করছেন বর্তমানের লেখক ও গবেষকরা। এই কার্যক্রম যদি কয়েক বছরে নারীদের ইতিহাস সংরক্ষণ করে রাখা যায় তবেই নতুন প্রজন্ম নারীদের মুক্তিযুদ্ধচলাকালে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পারবে।

লেখক: শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ স্টাডিজ বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ইত্তেফাক/এএইচপি