ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১, বাড়িঘরে আগুন

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ২০:২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে শীতল মিয়া (৬০) নামক একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আরও ২০জন আহত হয়েছেন। এ সময় গ্রামের ৬টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের মুক্তারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত শীতল মিয়ার বাড়ি মুক্তারামপুর গ্রামে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন-মুক্তিযোদ্ধা মালেক মিয়া, লালু মিয়া, মেহেদী হাসান, আমির মিয়া, সুমন মিয়া, রয়েল মিয়া ও মোহাম্মদ আলীসহ অন্তত ২০ জন। 

স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার সলিমগঞ্জ বাজারে মুক্তারামপুর গ্রামের কবির হোসেনের সমিলের কাঠ পিকআপ থেকে আনলোড শেষে ফিরে যাচ্ছিলো। এ সময় ধরাভাঙ্গা গ্রামের সলিমগঞ্জ বাজারের লাইনম্যান রহিম মিয়া পিকআপ থেকে ২০০ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে কবির মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম মিয়ার সঙ্গে লাইনম্যান রহিম মিয়ার কাটাকাটি হয়। পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে মুক্তারামপুর গ্রামের লোকজন ধরাভাঙ্গা গ্রামের চেয়ারম্যানের ছেলে মানিক ও খোকন মিয়াকে বেধড়ক মারধর করেন। মারধরের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ধরাভাঙ্গা গ্রামের লোকজন রামা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুক্তারামপুর গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষ মুক্তারামপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার শীতল মিয়াসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এছাড়া হামলাকারীরা ওই গ্রামের ৬টি ঘরে আগুন দেওয়াসহ নগদ টাকা স্বর্ণালংকার বিভিন্ন জিনিসপত্র লুটপাট করে। গুরুতর আহতাবস্থায় শীতল মিয়াকে রাজধানী ঢাকায় নেওয়ার পথে নরসিংদী পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়। 

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী হাসপাতালে রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।’

ইত্তেফাক/এএএম