বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সিরিয়ায় গভর্নরের অফিসে হামলা, সংঘর্ষে নিহত ২

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:২৭

অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির কারণে কয়েকশ বিক্ষোভকারী দক্ষিণ সিরিয়ার সুইদা শহরে গভর্নরের অফিসে হামলা চালায়। রোববার (৪ ডিসেম্বর) তারা ওই কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভবনের একটি অংশে আগুন দেয়। তখন গুলি বিনিময়ে অন্তত দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার দ্রুজ সংখ্যাগরিষ্ঠ সুইদা শহরের কেন্দ্রস্থলে ভবনটির চারপাশে দুই শতাধিক লোক জড়ো হয়েছিল। তারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেয়। তারা জানান, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অসহনীয় মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকট চরমে পৌঁছে যাওয়ায় তারা এই বিক্ষোভ করছেন।

সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েক হাজার বহিরাগত গভর্নরের অফিসে হামলা চালিয়ে নথিপত্র ও বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র পুড়িয়ে দেয়।

কয়েক হাজার বহিরাগত গভর্নরের অফিসে হামলা চালিয়ে নথিপত্র ও বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র পুড়িয়ে দেয়।

স্থানীয় তিন জন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বিক্ষোভকারীরা অফিসে হামলার আগেই ভবনটি খালি করা হয়। হামলার সময় গভর্নর ভবনে ছিলেন না।

দেশটির মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সুওয়াইদা২৪ এর সম্পাদক রায়ান মারুফ জানান, গভর্নর অফিসের ভেতরের সবকিছু পুড়ে গেছে। বিক্ষোভ চলাকালে গুলি বিনিময়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে কারা গুলি চালিয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

গভর্নর অফিসের ভেতরের সবকিছু পুড়ে গেছে।

শহরের হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন এক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ আরেকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুলিতে আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

সুইদার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবনে প্রবেশের পর বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট আসাদের ছবি নামিয়ে ফেলে।

সিরিয়ার এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে সুইদা প্রদেশে সামান্য সহিংসতা দেখা গেছে। তবে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পরিবারের শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রদেশে সহিংসতা শুরু হয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ

তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সহিংসভাবে সেখানে বিক্ষোভ দমন করছে।

ইত্তেফাক/ডিএস