শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শাস্তি পাচ্ছে উরুগুয়ের চার ফুটবলার

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৩৪

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে গেছে। কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে দুই বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। ফলে এমনিতেই উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের মনটা খারাপ। সেই হতাশার সঙ্গে উরুগুয়ে পড়ে গেছে বড় একটা বিপদেও। বিপদটা তারা নিজেরাই ডেকে এনেছে! ঘানার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের পর রেফারির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও ভার মনিটর ভাঙার অপরাধে শাস্তি পেতে যাচ্ছে উরুগুয়ের চার জন ফুটবলার। শুধু তাই নয়, রেফারির সঙ্গে উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের সেই কাণ্ডের জন্য উরুগুয়ের ফুটবল ফেডারেশনকেও ফিফার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।

ঘটনা পর্যালোচনা করে ফিফা উরুগুয়ের যে চার ফুটবলারের বিরদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে তারা হলেন এডিনসন কাভানি, হোসে মারিয়া গিমেনেজ, দিয়েগো গডিন ও ফার্নান্দো মুসলেরা। এরা প্রত্যেকেই পেতে পারে বড় ধরনের শাস্তি। তবে কাভানি এবং গিমেনেজের শাস্তিটাই হতে পারে সবচেয়ে বেশি। কারণ এই দুই জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। রাগ সামলাতে না পেরে বর্ষীয়ান তারকা কাভানি ঘুষি দিয়ে ভার মনিটর ভেঙে ফেলেছেন। আর গিমেনেজ রেফারিকে ‘চোর’ বলে গালি দিয়েছেন এবং ফিফার এক কর্মীকে কনুই মেরেছেন! প্রথমে এই দুই জনের সম্ভাব্য শাস্তির কথাই জানা যায়। এ নিয়ে খবরও ছাপা হয়েছে। পরে ফিফা ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখেছে, কাভানি-গিমেনেজের সঙ্গে গডিন এবং মুসলেরাও আচরণে সৌজন্যতার সীমা ছাড়িয়েছেন।

ঘানার বিপক্ষে ম্যাচটিতে ২-০ গোলে জিতেও বাদ পড়েছে উরুগুয়ে। ম্যাচে আর একটি গোল পেলেই শেষ ষোলোতে উঠতে পারত তারা। সেক্ষেত্রে বাদ পড়ত দক্ষিণ কোরিয়া। যারা শেষ ষোলোতে হেরেছে ব্রাজিলের কাছে। যাই হোক, প্রয়োজনীয় সেই গোলটা উরুগুয়ে পেতেই পারত, যদি রেফারি কাভানিদের পেনাল্টির আবেদনে সারা দিতেন। এক বার নয়, ম্যাচে উরুগুইয়ানদের দুটি পেনাল্টির আবেদন নাকচ করে দেন জার্মান রেফারি। প্রথমার্ধে ডারউইন নুনেজ প্রতিপক্ষ ঘানার বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির আবেদন জানায়।

পরেরটি ম্যাচের শেষ মুহূর্তে। এবার ফাউলের শিকার হন কাভানি। দুই বারই পেনাল্টির আবেদন করেন উরুগুইয়ানরা। এমনকি শেষ ঘটনাটিতে কাভানিরা ভিএআরের সহায়তা নেওয়ার আবেদনও জানান। কিন্তু রেফারি তাতেও কর্ণপাত করেননি। ম্যাচ শেষে তাই মাঠেই রেফারিকে ঘিরে ধরে তীব্র প্রতিবাদ জানান কাভানি-সুয়ারেজরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যে, রেফারিকে উরুগুয়ের খেলোয়াড়ের জটলা থেকে বের করে করতে আনতে ফিফা কর্মী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বেগ পেতে হয়েছে। রেফারিকে উদ্ধার করতে গেলে এক ফিফা কর্মীকে কনুই মেরে বসেন গিমেনেজ।

রেফারিকে ‘চোর’ বলে সম্বোধন করেন। কাভানি তো আরো একধাপ এগিয়ে ঘুষি মেরে ভিএআর মনিটরই ভেঙে ফেলেছেন, যে মনিটরে ভিডিও দেখেন রেফারিরা। রেফারিকে গালমন্দ করেছেন উরুগুয়ের সব খেলোয়াড়ই। এমনকি খেলোয়াড়দের বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিল কোচিং স্টাফের সদস্যরাও। তবে ঘটনা তদন্তে ফিফা উল্লেখিত চার জনের আচরণ ক্ষমার অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে শাস্তির ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, কাভানি ও গিমেনেজকে অন্তত ১৫ ম্যাচ করে নিষিদ্ধ করা হতে পারে!

 

ইত্তেফাক/ইআ