‘নিজের বলার মতো একটা গল্প’ ফাউন্ডেশনটি যেন উদ্যোক্তা তৈরির কারখানা

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:৫৭

কাজ তো অনেকেই করেন, কিন্তু মানুষের কাজে লাগে ক’জনা। জীবনের নানা পর্বে করেছেন অসম্ভবকে জয়। ‘নিজের বলার মতো একটা গল্প’ ফাউন্ডেশনটি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ১৬৪ জন তরুণ-তরুণীকে নিয়ে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে যাত্রা শুরু। যার শিক্ষার্থী সংখ্যা গত ৪ বছরে এখন সাড়ে ৬ লাখ! এখন এটি একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান, যার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট এবং মেন্টর ইকবাল বাহার জাহিদ।

ইকবাল বাহার জাহিদের নেতৃত্বে এ ফেসবুকভিত্তিক কমিউনিটি বর্তমানে রূপ নিয়েছে দেশের এক সেরা প্রশিক্ষণ প্লাটফর্ম হিসেবে। বলা হয়ে থাকে এটি ‘উদ্যোক্তা তৈরির কারখানা’। এটি বাংলাদেশের একমাত্র ফাউন্ডেশন যেখানে প্রতিদিন  উদ্যোক্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বিনামূল্যে। এটি উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ১৬টি বিষয়ে স্কিলস শেখানো, মূল্যবোধ, লিডারশিপ ও ভলান্টিয়ারিং চর্চা সংক্রান্ত প্লাটফর্ম। এর প্রতিষ্ঠাতা ১৯ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন আইটি উদ্যোক্তা।

ইকবাল বাহার জাহিদ বলেন, ‘প্রতিটি ব্যাচে টানা ৯০ দিন করে অনলাইনে ও অফলাইনে ৪০০টি কন্টেন্ট দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতিমধ্যে বদলে গেছে লাখো তরুণ-তরুণীর জীবন। হয় উদ্যোক্তা হয়েছেন, না হয় চাকরিতে ভালো করছেন। চাকরি করেও পার্ট-টাইম উদ্যোক্তা হয়েছেন, ছাত্রাবস্থায় পার্ট-টাইম উদ্যোক্তা হয়েছেন, হতাশা কাটিয়েছে, নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন, প্রবাসে বসে বাংলাদেশে ব্যবসা করছেন তাদের অনেকেই।

ইকবাল বাহার একজন উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, মেন্টর, পাবলিক স্পিকার, নিউজ প্রেজেন্টার ও বিজনেস প্রোগ্রাম অ্যাংকর। তিনি চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্সি (ইন্টার), এমকম ও এমবিএ করেন। ইন্টারনেট কোম্পানিতে চাকরি দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু। এক সময় একটি ইন্টারনেট কোম্পানির মালিক হন। চাকরি  জীবনেও সফল ইকবাল বাহার খুব অল্প বয়সে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার হন।

‘চাকরি করব না, চাকরি দেব’— এমন প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেন নিজের কোম্পানিতে। অবশ্য তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটা সহজ ছিল না। কিন্তু তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা ও ব্যাপক লেগে থাকা একজন স্বপ্নবাজ মানুষ। আজ তিনি বেশ কয়েকটি কোম্পানির উদ্যোক্তা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর। সৃষ্টি করেছেন তার প্রতিষ্ঠানেই ২২০ মেধাবী তরুণের কর্মসংস্থান।

ইকবাল বাহার বলেন, ‘আমরা শুধু স্বপ্ন দেখাইনি, কিভাবে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হয় তা শিখিয়ে যাচ্ছি টানা ৯০ দিন ধরে এক একটি ব্যাচে। ইতিমধ্যেই টানা ১৯  ব্যাচ শেষ হয়েছে, চলছে ২০তম ব্যাচ। শুধু তাই নয়, বদলে গেছে এসব তরুণের  জীবন। তারা এখন এক একজন দক্ষ মানুষ, পজিটিভ, সাহসী ও মানবিক মানুষ। প্রতিদিন সেশান চর্চা ও প্রতি মাসে ৬৪ জেলায় ও ৫০টি দেশে অনলাইন ও অফলাইন মিটআপের মধ্য দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যাপক সম্পর্ক, পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং, সেলস হাব ও নেটওয়ার্কিং।’

ইত্তেফাক/এসটিএম