রাজধানীর প্রবেশপথে সতর্ক পুলিশ, দূরপাল্লার বাসে যাত্রী কম

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ২২:৩৫

বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রবেশপথে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। অপরদিকে রাস্তায় গণপরিবহন থাকলেও যাত্রী নেই। ঢাকা থেকে দূর পাল্লার বাস ছেড়ে যাচ্ছে, আবার ঢুকছেও। তবে দূরপাল্লার বাসগুলোতেও যাত্রী নেই বললেই চলে। এছাড়া পুলিশের তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে পথচারীসহ সাধারণ যাত্রীদের। 

রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল, নাবিস্কো, সাতরাস্তা, মগবাজার, কাকরাইল, মৎস্য ভবন, শাহবাগ ও ফার্মগেট যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, ডেমরা, মেরাদিয়া বাজার, কুড়িল প্রগতি স্মরণী, আব্দুল্লাহপুর, তুরাগের ধৌড়, গাবতলী, বসিলা ব্রিজ বাবু বাজার ব্রিজ, তাঁতি বাজার মোড়, সদরঘাটসহ সব প্রবেশ মুখে একাধিক তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশ ও র‌্যাবের চেকপোস্টও রয়েছে। এসব চেকপোস্টে গাড়ি থামিয়ে সবাইকে তল্লাশি করা হচ্ছে।

রাজধানীর চিত্র। ছবি: ইত্তেফাক

রাস্তায় বের হওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিএনপির সমাবেশ কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং রাস্তায় পুলিশের ব্যাপক কড়াকড়ির কারণে সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কম।

ঢাকায় চেকপোস্ট বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি মিডিয়া) মো. ফারুক হোসেন বলেন, `১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে বিশেষ অভিযান চলছে। পলাতক জঙ্গি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও মাদক অপরাধীদের ধরতে এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে এই চেকপোস্ট নয়। তবে নাশকতাকারীও এই অভিযানের আওতায় আসবে। চেকপোস্টে নাশকতাকারী ধরা পড়লে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা বিশেষ করে শেরপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরবগামী বাস বেশি ছেড়ে যাচ্ছে। তবে দূরপাল্লার মধ্যে সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, বগুড়া এবং রংপুর রুটের বাস তুলনামূলক কম ছেড়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে কথা বলে জানা গেছে, যে পরিমাণ বাস সড়কে নামানো হয়েছে, সেগুলোও খুব কম যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা দিয়েছে। তবে দুপুরের পর যাত্রী বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর আমিন বাজার ব্রিজ এলাকা মহাসড়কে চেকপোস্ট ও পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি রয়েছে। সন্দেহভাজন গাড়ি থামিয়ে তারা তল্লাশি করছেন এবং প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে, রাজধানীর অন্যতম এই প্রবেশ গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

রাজধানীর চিত্র। ছবি: ইত্তেফাক

অপর দিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনেও বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। স্টেশনের বাইরে এবং ভেতরেও পুলিশের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। ক্ষেত্রবিশেষ সন্দেহজনক কাউকে পেলে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশিও করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য দিনের চেয়ে গতকাল স্টেশনের যাত্রীর চাপ অনেক কম বলে জানিয়েছে স্টেশন কর্তৃপক্ষ। 

কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বাইরে একসঙ্গে বেশি মানুষকে জটলা করতে দিচ্ছে না পুলিশ। কোনো ধরনের দলবদ্ধ অবস্থান থাকলেই তাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া স্টেশনের ভেতরে রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ বুথেও পর্যবেক্ষক টিম কাজ করছে।   

স্টেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ঢাকার বাইরে থেকেও খুব কম যাত্রী আসছে। যাত্রীরা আতঙ্কে থাকায় এমনটি হতে পারে। 

পুলিশ বলছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে আমরা চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি করি। কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হচ্ছে। তবে কাউকে হয়রানি করা পুলিশের উদ্দেশ্য নয়। 

ইত্তেফাক/এএএম