গরম হাওয়া কিছুটা শীতল হলো অবশেষে

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ২১:২৭

বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক

 

এসসিও সম্মেলনের অন্তিম পর্বে এসে শীতলতা কাটল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মধ্যে। শনিবার বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের লাউঞ্জে ‘সৌজন্য বিনিময়’ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। সৌজন্য বিনিময়ের পরেই দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে পাক সংবাদমাধ্যমে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দেশের গণমাধ্যমকে বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়। তবে দুই নেতার কথা হয়েছে। এটাকেই বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুই দেশের বিশ্লেষকরা। পরে পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেন, এটি একান্ত ঘরোয়া কথাবার্তা। সৌজন্য বিনিময়ও বটে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে জয়ের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তিনিও ধন্যবাদ গ্রহণ করে পাল্টা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মোদি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কারণ ভারতের একটি বড় রাজনৈতিক দলকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিপুল ভোটে জিতে এসেছেন উনি (মোদি)।

গান্ধী পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে এ মন্তব্য করেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মোদি প্রশাসনকে ইতিবাচক একশটি বার্তা দিতে চেয়েছেন। লোকসভা ভোটের আগে ইমরান নিজেই বলেছিলেন, বিজেপির মতো দল দিল্লিতে ক্ষমতায় থাকলে কাশ্মির সমস্যা সমাধানে সুবিধা হবে পাকিস্তানের। কারণ ‘অন্য’ দলটি হিন্দুদের প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাক-ভারত আলোচনা শুরু হলে ঘরোয়া রাজনীতিতে ইমরানের পক্ষেও তা স্বস্তিদায়ক হবে। পাক সেনারাও সেটাই চায়। উপরন্তু সামনেই এফএটিএফ সম্মেলন। যেখানে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ মাথায় নিয়ে ধূসর তালিকায় পাকিস্তান। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে নিজেদের প্রয়াসের ছবি তুলে ধরাটা তাই পাকিস্তানের কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতাও।

পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোদি-ইমরানের সাক্ষাত্ নিয়ে কথা বললেও তুলনামূলকভাবে অনেক ক্ষণ নিশ্চুপ থাকে নয়াদিল্লি। পরে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, অনেকে বলছেন, দুই নেতার মধ্যে নাকি বৈঠক হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে কোনো বৈঠক হয়নি। যেটা হয়েছে, তা নেহাতই সৌজন্য বিনিময়। ফলে অযথা খবরকে বিকৃত না করাই ভালো।

দিল্লির এ বিবৃতিতেই স্পষ্ট যে, সাধারণ শুভেচ্ছা বিনিময়ের বিষয়টিও যাতে দেশে কোনোভাবেই বেশি আলোচিত না হয়, তার চেষ্টা চলছে। শনিবার থেকেই একাধিকবার মুখোমুখি হন দুই নেতা। অনুষ্ঠানে তারা একই সারিতে বসেছেন। কিন্তু ঐ সময় বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়নি তাঁদের। গ্রুপ ছবিতেও দুজনে দাঁড়িয়েছেন দুই প্রান্তে। সম্প্রতি ইমরান মোদিকে চিঠি লিখে কাশ্মিরসহ সমস্ত বকেয়া বিষয় নিয়ে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মোদির জয়ের পর ফোনও করেছিলেন। কিন্তু সর্বসমক্ষে মূলত মোদি এড়িয়ে যান ইমরানকে।

রাজনৈতিক সূত্রের মতে, একই কক্ষে দীর্ঘক্ষণ থেকেও সামান্য সৌজন্য বিনিময় না করাটা খুবই অস্বাভাবিক হয়ে উঠছিল। তাই মুখোমুখি হওয়াতে সেটুকু সেরেছেন মোদি। ঘরোয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে এর বেশি আগাননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিজেপি যুদ্ধের জিগির তুলেছিল লোকসভা ভোটের ঠিক আগে। ফল ঘোষণার এক মাসের মধ্যেই তিনি যদি ইমরানের সঙ্গে ফটোসেশন করতেন তাহলে ভুল বার্তা যেত। খুশি হতো না সংঘ পরিবারও। তাই ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ নীতি নিয়ে ‘নমো নমো’ করেই সৌজন্য সারলেন ‘নমো’! এতেই গরম হাওয়া খানিকটা শীতল হলো!