রুশ এস-৪০০
ক্ষেপণাস্ত্র
কেনা প্রসঙ্গ
তৌহিদ আজিজ
রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে রয়েছে ভারত ও তুরস্ক। তবে তুরস্ক ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া জবাবের বিপরীতে বলেছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাহলে আঙ্কারাও বসে থাকবে না। পাল্টা ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত রয়েছে তারা। অন্যদিকে ভারতের অবস্থান এক্ষেত্রে অনেকটা নড়বড়ে পর্যায়ের। তারা না পারছে তর্জন-গর্জন করতে, না পারছে মুখ বুঝে সইতে। উল্টো নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তারা এস-৪০০ কিনলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে ভারত।
এস-৪০০ কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আসলে মাথা ব্যথার কারণ রাশিয়া। রাশিয়ার কাছ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি কেনা নিয়েই যত দুশ্চিন্তা যুক্তরাষ্ট্রের। কারণ এতে করে মনে করা হয় যে, বিশ্বে রাশিয়ার প্রভাব বলয় বেড়ে যাবে। আবার এই অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে রাশিয়া তার অর্থনৈতিক দিক থেকে ঘুরেও দাঁড়াতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মোটেও কোনো সুসংবাদ নয়। সেই স্নায়ু যুদ্ধ কাল থেকেই দেশ দুটির মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক। স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও সেই অবস্থা থেকে কেউই বেরিয়ে আসতে পারেনি। প্রকাশ্যে তেমন কোনো বৈরিতার বহিঃপ্রকাশ না ঘটলেও ভেতরে ভেতরে তাদের আগের মনসিকতাই রয়ে গেছে। এখন যা রয়েছে তাতে বলা যেতে পারে এক মেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা। যাই হোক, এই বিতর্কে না গিয়ে আমরা মূল আলোচনায় ফিরে আসি। সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনা নিয়ে বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে তা ভারতের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। এরজন্য বড় ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে নয়াদিল্লিকে। হতে পারে এটি সাময়িক আবার হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি।
ভারতকে এ ধরনের একটি হুমকি এমন এক সময়ে দেওয়া হলো যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ মাসের শেষের দিকে দেশটিতে আসার কথা রয়েছে। এছাড়া সামনে জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের কথা রয়েছে। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এমন একটি সময়ে এ ধরনের হুঁশিয়ারিকে খুব স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না। তারা মনে করছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজের শক্ত অবস্থান বুঝাতে ভারতের ওপর ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। যাতে করে অন্যদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস কংগ্রেসের হাউস অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাব কমিটিকে বলেন, আমাদের ঘনিষ্ঠ দেশগুলোকে খুব ভালোভাবে ভেবেচিন্তে সিদ্ধাস্ত নিতে হবে কোনো সমরাস্ত্র ব্যবস্থা ও প্ল্যাটফর্ম তাদের কিনতে হবে। আমরা এরই মধ্যে দিল্লিকে জানিয়ে দিয়েছি, প্রতিরক্ষায় ভারতকে যতটা সম্ভব সাহায্য করব। কিন্তু তাদেরকেও বুঝতে হবে, মার্কিন কংগ্রেস তাদের ‘প্রধান প্রতিরক্ষা সহযোগী’র মর্যাদা দিয়ে কী আশা করছে। দিল্লি যদি রুশ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কেনা থেকে পিছু না হটে তা হলে আমাদেরও অন্য পথে হাঁটতে হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য তুরস্ত কিন্তু যা বলার সরাসরিই বলছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের নাকের ডগায় নিষেধাজ্ঞার খড়গ ঝুলিয়ে দেয় তাহলে এর পরিণাম তাদেরকেও ভুগতে হবে। কেননা আমাদের হাতেও অন্য কোনো বিকল্প খোলা নেই। আমাদের পক্ষে এখন এই অর্ডার বাতিল করাও সম্ভব নয়।
