সারি নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতা দাবি

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২২, ২১:০৬

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নীল নদখ্যাত সারি নদী থেকে অবৈধভাবে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেছে কথিত সোহেল তাজ গংরা। নদী খননের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে চুক্তির কোনো কপি তারা দেখাতে পারেনি। এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন কিছু জানে না বলে মন্তব্য করেছেন।
 
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সারি নদী তিনটি ভাগে বিভক্ত করে দুটি অংশ (সারি ১: সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সারি ব্রিজ হতে নিচের অংশ), (সারি ২: সারি ব্রিজ হতে লালখাল পর্যন্ত) এবং (সারি ৩: মামলাভুক্ত দাগসমূহ) তার মধ্যে সরকার শ্রমিকদের ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে (বালতি দিয়ে) বালু-পাথর আহরণের জন্য ইজারা প্রদান করে।

ইজারাদার বাদে আরেকটি প্রভাবশালী চক্র সোহেল তাজ গং সরকার ঘোষিত ম্যানুয়েল পদ্ধতির বাহিরে অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যে কামরাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সারি নদী খননের নামে বোমা মেশিন বসিয়ে বালু আহরণ শুরু করে। খবর পেয়ে বালু শ্রমিক ও এলাকাবাসীরা দ্রুত বাধা দিতে আসে। কিন্তু শ্রমিক ও এলাকাবাসীর বাধাকে তোয়াক্কা না করে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে সোহেল তাজ গংরা।

বোমা মেশিন বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল তাজ গংয়ের প্রতিনিধি মাসুম আহমদ বলেন, ‘আমরা সরকারের অনুমতি নিয়ে নদী খননের জন্য সিলেটের ডিসি সঙ্গে চুক্তি (ডিড) করে কাজ শুরু করেছি। তবে ডিসির সঙ্গে চুক্তির কোনো কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেনি। এমনকি সোহেল তাজ এলাকায় অবস্থান করলেও তিনি সামনে আসেননি।’

সোহেল তাজ চারিকাটা ইউপির এক সদস্যের মোবাইল ফোনে জানান, ‘সিলেট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে আমার সারি নদী খননের বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন অবগত আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানে ডিসির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, সেখানে উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর প্রয়োজন নেই।’

নিজপাট ইউপির চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলী বলেন, ‘আমি জেনেছি তারা গায়ের জোরে বোমা মেশিন বা ড্রেজার মেশিন বসিয়ে কোনো প্রকার অনুমতি ব্যতিত নদী খনন শুরু করেছে। কিন্তু সারি নদীর প্রধান শাখা নদী বড় নায়াগাং নদীর ১০ কিলোমিটার এলাকা বালুতে ভর্তি হয়ে পানি শুকিয়ে গেছে। সেই নদীর তীরবর্তী পাড়ের বাসিন্দারা পানির জন্য হাহাকার করছে। বড় নয়াগাং নদী খননের প্রয়োজন কিন্তু তা না করে সারি নদীর নাব্যতা থাকার পরও প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে খনন কাজের নামে বালু লুট করার পায়তারা করছে। তাদের কোনো অনুমতি আছে বলে আমার জানা নেই। শ্রমিকদের স্বার্থে যন্ত্রদানব এই মেশিন বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমদ বলেন, ‘সারি নদী খননের কোনো অনুমতি নেই। যুগ যুগ ধরে সারি নদীর নাব্যতা রয়েছে। যেখানে বালু জমছে সেগুলো শ্রমিকরা তুলে নিচ্ছে। সরকার ইজারার মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করছে। বোমা কিংবা ড্রেজার মেশিন বসানোর কোনো অনুমতি নেই। শুধুমাত্র ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে বালু আহরণ হবে। যারা বোমা মেশিন বসিয়েছে তারা অবৈধ কাজ করছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-বশিরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিসি স্যার অনুমতি প্রদান করলে উপজেলা প্রশাসন অবশ্যই পত্র পাবে। কিন্তু নদী খননের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

ইত্তেফাক/আই/পিও