দুই সপ্তাহে ইউক্রেনের ১৭৩ নাগরিকের দেশে প্রবেশ

আপডেট : ১৬ জুন ২০১৯, ২১:৩৬

এটিএম বুথ জালিয়াতি

জামিউল আহসান সিপু

অভিনব জালিয়াতির মাধ্যমে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলার ঘটনায় গ্রেফতার ইউক্রেনের ছয় নাগরিকের কাছ থেকে আরো তিন নাগরিকের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ তিন নাগরিক বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখা থেকে তাদের তথ্য সংগ্রহ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তিন দিনের রিমান্ড শেষে পুনরায় সাত দিনের আবেদন জানিয়ে ঐ ছয় নাগরিককে শনিবার আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকা মহানগর হাকিম ইয়াসমিন আরার আদালত তাদের আরো ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতারকৃত ইউক্রেনের ছয় নাগরিক হলেন— দেনিস ভিতোমস্কি, নাজারি ভজনোক, ভালেনতিন সোকোলোভস্কি, সের্গেই উইক্রাইনেত্স, শেভচুক আলেগ ও ভালোদিমির ত্রিশেনস্কি। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহিদুর রহমান বলেন, এ চক্রটির সঙ্গে আরো তিন ইউক্রেন নাগরিকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে। তবে এ ছয় ইউক্রেন নাগরিক গ্রেফতারের পরপর ঐ তিনজন দেশের বাইরে পালিয়ে যায়। তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, এ চক্রটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৯টি এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা চুরি করে। তবে তারা টুপকিন ম্যালওয়ার ব্যবহার করেছেন কিনা— তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক তথ্যে নিশ্চিত হয়েছি, এটিএম বুথ কম্প্রোমাইজ করেই তারা টাকা উত্তোলন করেছেন। এ সংক্রান্ত ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে আসা শুরু হয়েছে। এছাড়া বিশেষ কায়দায় বুথ হ্যাক করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে প্রযুক্তি বিষয়ক দক্ষ কর্মকর্তারাও মত দিয়েছেন।

এদিকে, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ইউক্রেনের ১৭৩ নাগরিক ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন, যাদের  ৭৪ জন ইতোমধ্যে দেশ থেকে চলে গেছেন। এদের মধ্যে অন্তত তিনজন রয়েছেন, যারা এ জালিয়াত চক্রের সদস্য। এছাড়া আত্মগোপনে থাকা ইউক্রেনের আরেক নাগরিককে খুঁজছে গোয়েন্দা পুলিশ। ইমিগ্রেশন সূত্র বলছে, গ্রেফতারকৃত ছয় ইউক্রেন নাগরিক গত ৩০ মে ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। তাদের সঙ্গে আরো তিন ইউক্রেন নাগরিক দেশে আসেন। গত ৩১ মে খিলগাঁও এলাকার ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি বুথ থেকে ইউক্রেনের দুই নাগরিক তিন লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরদিন একই বুথ থেকে তারা টাকা হাতিয়ে নিতে ঢোকে। তারা মুখে মাস্ক দিয়ে ও মাথায় ক্যাপ দিয়ে বুথে ঢোকে। তবে বুথে ঢুকে বেশি সময় নেওয়ায় নিরাপত্তারক্ষীর সন্দেহ হলে তিনি আশপাশের লোকজনের সহযোগিতা চান। বিষয়টি টের পেয়ে দুই বিদেশি নাগরিক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে একজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেনে অভিযান চালিয়ে আরো পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।