পরিত্যক্ত পশ্চিমাঞ্চল রেলের ৩০ কিলোমিটার রেলপথ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০২

দেশ জুড়ে পরিত্যক্ত রেলপথের পরিমাণ ১৫৮ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ৩০ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার রেলপথ পরিত্যক্ত। এই পরিত্যক্ত রেলপথগুলোতে নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পত্তি। সেই সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও অবহেলায় চুরি হয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ রেলওয়ের যন্ত্রাংশ। অবশিষ্ট যেটুকু আছে, তাও চাপা পড়েছে মাটির নিচে। এছাড়া ব্যবহৃত মূল্যবান নাট-বল্টু, তার, সিগন্যাল ব্যবস্থাসহ স্টেশনের বন্ধ রেলপথের কোনো মালামালই এখন আর বহাল-তবিয়তে নেই। কিছু রেল তুলে রাখা হলেও ফিশপ্লেট, ফিশবোল্ট, স্লিপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মালামালের কোনো অস্তিত্ব নেই।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশ জুড়ে পরিত্যক্ত রেলপথের বেশির ভাগ মালামালই রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাবে চুরি ও নষ্ট হয়েছে। পরিত্যক্ত এই রেলপথের মধ্যে কয়েকটি বন্ধ হয়ে যাওয়া শাখা লাইন এবং বিভিন্ন স্টেশনের সাইডিং লাইন রয়েছে। এগুলো দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় মাটিতে ঢেকে গিয়েছে। ফলে অকেজো হয়ে পড়েছে বিদ্যমান স্লিপার।

শুধু পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পরিত্যক্ত রেলপথ আছে ৩০ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাবনায় ভাঙ্গুরা সাইডিং লাইনের ৮৬৫ মিটার, নওগাঁর আত্রাই ঘাটলাইন ১, ২ ও ৩-এর ৬৬৮ মিটার ডাবল হেড রেল রয়েছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি পরিত্যক্ত রেলপথ রয়েছে গাইবান্ধা জেলায়, ১৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ত্রিমোহনী-বালাসীঘাটের ৯ কিলোমিটার ও বোনারপাড়া-ভরতখালীর ৮ কিলোমিটার রেললাইন ও ফিটিংস পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। একইভাবে ১২ কিলোমিটার পরিত্যক্ত রেলপথ রয়েছে লালমনিরহাট জেলায়। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত রেলপথের বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। ২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত রেলওয়ে খাতে কোনো উন্নয়ন তো হয়নি, উলটো জনবল কমিয়ে ফেলা হয়। ফলে অনেকগুলো স্টেশন ও রেলপথ বন্ধ হয়ে যায়। সারা দেশের ১৫৮ কিলোমিটার রেলপথ পরিত্যক্ত অবস্থায় চলে যাওয়ার এটা একটা বড় কারণ। তবে ২০০৯ সালের পর থেকে রেলওয়ে খাতে প্রভূত উন্নয়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া রেলপথ ও স্টেশনগুলো চালুর নির্দেশনা রয়েছে।

 

ইত্তেফাক/ইআ