সাড়ে চার ঘণ্টার গন্তব্যে যেতে লাগে সাত-আট ঘণ্টা

বিরতিহীন বনলতার বিরতির শেষ নেই!

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:১৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে ঢাকা রুটে চলাচলকারী ‘বিরতিহীন (ননস্টপ)’ বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় লোকাল ট্রেনে পরিণত হয়েছে। ট্রেনটির ধীরগতি এবং প্রায় প্রতিটি স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতির ধরন দেখে এমনটিই মনে করছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, ‘ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছার সময় ৪ ঘণ্টা নির্ধারিত থাকলেও কোনো কোনো সময় সাত/আট ঘণ্টায়ও পৌঁছে না। এছাড়া ট্রেনটি পথিমধ্যে রাজশাহী এবং বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর দুই প্রান্তে যাত্রা বিরতি থাকলেও প্রায় প্রতিটি স্টেশনেই অনির্ধারিতভাবে ৩ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে। মনে হয় যেন বিরতিহীন বনলতা এখন লোকাল ট্রেনে পরিণত হয়েছে।’

ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, গত শনিবার বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কমলাপুর থেকে ট্রেনটি ছাড়ে বিকাল প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে। এরপর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন, বিমানবন্দর, মৌচাক, জয়দেবপুর ও বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুপূর্ব স্টেশনে গড়ে তিন মিনিট থেকে ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকে। এতে ট্রেনের যাত্রীরা দারুণ দুর্ভোগে পড়েন। 

বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বিরতিহীন বনলতার ‘ঘ’ বগিতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় ঐ বগি খুলে সরিয়ে নিতে এবং যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরতের সিদ্ধান্ত নিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দুই ঘণ্টা সময় লাগে। ‘বিরতিহীন’ বনলতার এমন দুর্দশা দেখে যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের অনেকেই রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। কিন্তু সৃষ্ট সমস্যার কোনো প্রতিকার হয়নি। বরং যে ট্রেন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে রাজশাহীতে পৌঁছার কথা ছিলো, সেটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টায় পৌঁছে।

ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, রাত ৯টার সময় বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুপূর্ব স্টেশনে অপেক্ষা করছিল। অর্থাৎ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টাতেও বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু পার হতে পারেনি বিরতিহীন বনলতা ট্রেন।

ঐ ট্রেনের যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, এত বিলম্বের কারণে আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শীতের মধ্যে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকেই ঠাণ্ডায় কাবু হয়ে পড়েছেন। বিরতিহীন বনলতায় অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনে যদি লোকাল ট্রেনের মতো যেতে হয়, তাহলে রেল কর্তৃপক্ষের দায়ভার নেওয়া উচিত।’

বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন। ছবি- সংগৃহীত

হাদিসুর ইসলাম নামে আরেক যাত্রী বলেন, বিরতিহীন বনলতাকে পাস দেওয়ার কথা অন্য ট্রেনগুলোর। কিন্তু আমরা শনিবার তার উলটোটা দেখলাম। বনলতা ট্রেনকে দাঁড় করিয়ে অন্য ট্রেনকে পাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা, গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার বলেন, বনলতাসহ সব ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাত্রীদের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ভোগের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

ইত্তেফাক/এমএএম