সারাদিন দেশমাতৃকার সেবায় যে যেভাবে পারেন সেভাবেই নিজের সাধ্যানুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করেন। কেউ ছবি এঁকে, কেউ লিখে, কেউ যোদ্ধা হিসেবে, কেউ বোদ্ধা হিসেবে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা চালিয়ে যান। আমাদের ফ্যাশন হাউজগুলো এ প্রজন্মকে পোশাকের দিক থেকে করেছে স্বদেশমুখী। ফলে তাদের ডিজাইনের একটা বড় অংশজুড়ে রয়েছে দেশাত্মবোধের চেতনা। এবারের বিজয় দিবসে লাল-সবুজের প্রত্যয়ে আবারও সে চেষ্টাই চালিয়েছেন তারা।
মূলত ফ্যাশনের ধারাটা সময়কে ধারণ করে। স্টাইল, স্মার্টনেস, আউট লুকিংয়ের সামগ্রিক কনসেপ্টে বৈচিত্র্য এলেও ১৬ ডিসেম্বর (বিজয় দিবস), ২৬ মার্চ (স্বাধীনতা দিবস) এবং ২১ ফেব্রুয়ারির ফ্যাশনে দেশাত্মবোধের ভাবধারাটা উন্মোচিত হয়। এর সঙ্গে ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ সহ অন্যান্য উত্সবকেন্দ্রিক ফ্যাশন প্রবাহের রয়েছে এক বিরাট তফাৎ। আর এই তফাৎ প্রগাঢ় রঙে উদ্ভাসিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রয়েছে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জন্ম লাভের ইতিহাস। তাতে রয়েছে বাঙালির স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলা ভাষার প্রতি সশ্রদ্ধ মমতা এবং এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের প্রবল অনুরণন। যে অনুরণনের প্রতিটি পল-অনুপলে রয়েছে স্বাধীনচেতা বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের মহিমান্বিত গৌরব গাঁথার মহোত্তম স্বপ্ন বিকাশের আদিগন্ত স্ফুরণ।
দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম, যুদ্ধ এবং পরিণতিতে স্বাধীনতা অর্জন। ১৯৭১’র ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় এখন ফ্যাশন স্টাইলের অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এ ফ্যাশন-স্টাইলে উত্সব আমেজ থাকলেও তার থেকে বেশি থাকে দেশাত্মবোধ তথা দেশপ্রেম। আর সে কারণেই বিজয়, স্বাধীনতা কিংবা ভাষা দিবসের ফ্যাশনের প্রথম চিত্রকল্প হিসেবে পোশাকে, শো-পিসে, পটে ওঠে আসে মুক্তিযুদ্ধের স্থিরচিত্রের চিত্রকর্ম, বঙ্গবন্ধু, রবীন্দ্রনাথের মুখচ্ছবি। একাত্তরের আত্মত্যাগের বাঙালি ধরনটা যেমন হৃদয় ছোঁয়া, মর্মস্পর্শী, আবেগঘন; তেমনি আনন্দময়তার রেশটাও কম নয়। ফলে দুটি রূপেরই প্রতিফলন দেখা যায় ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ এবং ২১ ফেব্রুয়ারির ফ্যাশন কনসেপ্টে। আর এই ফ্যাশন বোধের মর্মকথাটা চিত্রে ও কবিতার পঙক্তির মাধ্যমে পোশাকে উৎকীর্ণ করার সফল প্রয়াসটা প্রতি বছরের এই বিশেষ দিনগুলোতে করে থাকেন প্রতিষ্ঠিত আউটলেটগুলোর পক্ষে নিজস্ব ডিজাইনাররা। এবারের বিজয় দিবসও এর ব্যতিক্রম নয়।
ইতিমধ্যে দেশীয় প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন হাউজগুলো বিভিন্ন প্রজন্মের ফ্যাশন সচেতনদের জন্য ডিসপ্লেতে সাজিয়েছে পোশাকের পসরা। যেহেতু বিজয় দিবস— তাই টি-শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, শাড়ি সহ নানা পোশাকে প্রাধান্য পেয়েছে লাল ও সবুজ রঙ। আমাদের জাতীয় পতাকার রঙকে তুলির আঁচড়ে নান্দনিকভাবে পোশাকের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নান্দনিক আঙ্গিকে।

বিজয়ের রঙে পোশাক-অনুষঙ্গ
বিজয়ের রঙে সেজেছে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো। এরমধ্যে অঞ্জন’স, বিশ্বরঙ, কে ক্র্যাফট, নগরদোলা, রঙ বাংলাদেশ, আড়ং, নিপুন, বাংলার মেলা, বাসন্তী উল্লেখযোগ্য। শুধু ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়, দায়িত্ব ও মূল্যবোধ থেকেই তারা বিজয় দিবসের বিশেষ আয়োজন করে থাকে। লাল-সবুজ আমাদের পতাকার রঙ, আমাদের বিজয়ের প্রতীক। বিজয়ের এ ডিসেম্বর মাস জুড়ে তাই লাল-সবুজকে নিয়েই তাদের যত আয়োজন। শীতের আগমনে এ আয়োজনে বিজয় দিবসে কিছুটা ভিন্নতা আনা হয়েছে। পোশাকগুলোতে ব্যবহার করা হয়েছে মোটা সুতি ও খাদি কাপড়।
শাড়ি, থ্রি-পিস, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, ছেলেমেয়েদের কুর্তা, টি-শার্ট ইত্যাদিতে তুলে ধরা হয়েছে বাংলাদেশ লেখা এবং লাল-সবুজ রঙের মাধ্যমে ওঠে এসেছে দেশীয় ভাবনা। পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতর বিভিন্ন উপাদান এসেছে ডিজাইনের অনুষঙ্গ হিসেবে। কাজের মাধ্যম হিসেবে এসেছে টাইডাই, বক, বাটিক, অ্যাপলিক, ক্যাটওয়াক, স্ক্রিন প্রিন্ট ইত্যাদি। আর এসব পোশাকের দাম ক্রেতার নাগালের মধ্যেই।
