ঘোষিত বাজেট এখনো কার্যকর হয়নি। তার আগেই খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সয়াবিন, পামওয়েল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়ে গেছে। গতকাল রবিবার বাজারে এসব পণ্য মণে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ পণ্যগুলো অনেক আগের কেনা। বিক্রেতারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে পণ্যের সরবরাহ আগের চেয়ে কম।
আমদানি করা পণ্যের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের একটি নোটিশ জারি করেছে কাস্টমস। এই কারণে পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। কাস্টমসের নোটিশ নিয়ে আমি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। তারা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন।’
বাজেটে কিছু কিছু আমদানিকৃত পণ্যে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাজেট কার্যকর অনেক সময় সাপেক্ষ বিষয়। তার আগেই কম দামে কেনা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বিক্রেতারা। গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সয়াবিন, পামওয়েল ও চিনির দাম বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দাম বৃদ্ধির কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছে না বিক্রেতারা। তেলের ডিও ব্যবসায়ী আলমগীর পারভেজ ইত্তেফাককে জানান, সয়াবিন ও পামওয়েলের দাম বেড়েছে। তবে দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে এমনিতে বেড়েছে বলে জানান তিনি। জানা যায়, খাতুনগঞ্জে ৭/৮ জন তেলের ডিও ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের কাছে পূর্বে কম দামে কেনা অনেক ডিও রয়েছে। এখন এসব তেল চড়া দামে বিক্রি করছে তারা। গতকাল রবিবার প্রতিমণ ২৭১০ টাকার সয়াবিন ২৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর ১৮১০ টাকা দরের পামওয়েল ২০২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
অন্যদিকে, চিনির দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। প্রতিমণ ১৬৯০ টাকার চিনি ১৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। চট্টগ্রামে চিনির বাজার স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত একটি কোম্পানির নিয়োগপ্রাপ্ত পরিবেশকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্য কোম্পানির চিনি চট্টগ্রামে তেমন বেচাকেনা হয় না। ফলে হঠাত্ চিনির দাম বাড়িয়ে বিপুল মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের চিহূিত চিনি সিন্ডিকেট চক্র।
ব্যবসায়ী নেতা সোলায়মান বাদশা ইত্তেফাককে বলেন, পাইকারি বাজারে মসলা জাতীয় পণ্য, তেলে ও চিনির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকের কাছে আগের ডিও কেনা রয়েছে। দাম বৃদ্ধির পর এখন শুধু ডিও বেচাকেনা হচ্ছে।’
গতকাল পাইকারি বাজারে ২১ টাকা কেজির পেঁয়াজ দাম বেড়ে ৩০ টাকায়, ৮০ টাকার রসুন ১৩০ টাকায় ও ৭০/৮০ টাকার আদা ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ব্যাপারে হামিদুল্লাহ খান মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস বলেন, এসব পণ্য চায়না ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এসব দেশে পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। বাজারে সরবরাহও কম। চাহিদা অনুপাতে পণ্য সরবরাহ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই পাইকারি দাম বেড়েছে।’
