সাহিত্যের ছোট কাগজ অন্তরাশ্রম। গত ৩০ নভেম্বর পত্রিকাটির চতুর্থ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। এবারের সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়েছে লেখক ও চিন্তক ‘অনুপ সাদি সংখ্যা’। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের ৩২ জন কবি, সাহিত্যিক ও লেখক অনুপ সাদির কাজের সামগ্রিক মূল্যায়ন করে করেছেন। রোববার (১৭ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় নেত্রকোণা শহরের পুরাতন হাসপাতাল রোডের অন্তরাশ্রমের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কবি এনামূল হক পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্যমণি লেখক অনুপ সাদি। এছাড়া বিখ্যাত ছড়াকার ও লোক সংস্কৃতি গবেষক সঞ্জয় সরকার, সজীব সরকার রতন, পার্থ প্রতীম সরকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
অন্তরাশ্রম শুরু থেকেই অনন্ত জীবনের গান গেয়ে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের এই আয়োজনের প্রথম অধ্যায়ে ‘অনুপ সাদি’ সম্পর্কে বিভিন্ন গুণীজন লিখেছেন। লেখকদের ভেতরে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, নেপালের ত্রিভূবন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক অরুণ গুপ্ত, বাংলাদেশের গল্পকার ইবাইস আমান, পশ্চিমবঙ্গের লেখক ও উইকিপিডিয়ান পিনাকী বিশ্বাসসহ মোট নয়জন লেখক।
অন্তরাশ্রমের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘অনুপ সাদি’র সামগ্রিক কাজের মূল্যায়ন করা হয়েছে। মোট নয়জন লেখক তার প্রবন্ধ, কবিতা ও সম্পাদিত বিভিন্ন গ্রন্থ সম্পর্কে বহুবিধ মূল্যায়ন রচনা করেছেন। অনুপ সাদির বক্তৃতা, আলোচনা, সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন কাজের মূল্যায়ন করা হয়েছে এই অধ্যায়ে। এসব আলোচনা করেছেন কবি সরকার আজিজ, লেখক ও গল্পকার হান্নান কল্লোল, শিশু সাহিত্যিক সৈয়দা নাজনীন আখতার, অধ্যাপক পূরবী সম্মানিত, রবীন্দ্র গবেষক তন্ময় বীরসহ অনেকে।
এছাড়াও অনুপ সাদির সামাজিক কাজের মূল্যায়ন করেছেন আরও পাঁচজন লেখক। সামাজিক কাজ হিসেবে সাদির কাজগুলো প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও রাজনৈতিক বিষয়ে জড়িত ছিলো। তার কাজগুলো বৈচিত্র্যকে ধারণ করে বিকশিত হয়েছে। সাহিত্যের ছাত্র হয়েও তিনি এ পার্থিব জগতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উইকিপিডিয়ায় নিবন্ধ তৈরি করেছেন, অনলাইনে লিখেছেন,পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য কাজ করেছেন। উইকিপিডিয়ার কাজ নিয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন বাংলা উইকিপিডিয়ার প্রশাসক সুব্রত রায় ও নাহিদ সুলতান, ডোটেলি উইকিপিডিয়ার প্রশাসক জনক রাজ ভট্ট, নেপালি উইকিপিডিয়ার সম্পাদক হিমাল সুবেদী এবং অনুপ সাদির জীববৈচিত্র্য রক্ষার কাজ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন সাংবাদিক রকিবুল হক সুলভ।
অনুপ সাদির কাজগুলো চালিত হয়েছে পাঠকের সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্ককে মানবিক অনুশীলন নির্ভর সম্পর্কে পর্যবসিত করার লক্ষ্যে। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বের অনুশীলনকারী এই লেখক তাই সাহিত্য চর্চা, সাহিত্য বোঝা এবং সাহিত্যের সংস্কৃতি গড়ে তোলাকে সকল সময়ে প্রাধান্য দিয়েছেন।
সাহিত্য সৃষ্টির এক জটিল প্রক্রিয়ায় অনুপ সাদি এর আগে মোট ১২টি প্রবন্ধ ও কবিতার বই লিখেছেন এবং সম্পাদনা করেছেন। তার বেশ কয়েকটি বই নিয়ে গ্রন্থ আলোচনা করেছেন গবেষক দিল আফরোজ, কবি রণজিৎ মল্লিক, আইটিবিষয়ক লেখক অমিত মণ্ডল, ছাত্রনেতা মিটুন শর্মা অভি এবং আলোচক অনাবিলা অনা।
অনুপ সাদিকে নিবেদন করে কবিতা লিখেছেন বাংলাদেশ ও নেপালের পাঁচজন কবি। তার একটি দীর্ঘ জীবনী রচনা করে দিয়েছেন কবি দোলন প্রভা। সবশেষে লেখকদের সংক্ষিপ্ত জীবনী যুক্ত করা হয়েছে যা সংখ্যাটির গুরুত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে। ঝকঝকে ছাপা ও চমৎকার প্রচ্ছদের এই সংখ্যাটিকে নির্ভুলভাবে প্রকাশ করেছেন প্রকাশক মাহবুবা এনাম সোমা।
অনুপ সাদিকে নিয়ে এ রকম একটি সংখ্যার প্রয়োজন ‘অন্তরাশ্রম’ কেন অনুভব করেছেন জানতে চাইলে সম্পাদক এনামূল হক পলাশ বলেন, ‘অন্তরাশ্রম’ একটি প্রতিষ্ঠান যেটি বিশ্ববীক্ষায় দীক্ষিত। আন্তর্জাতিকতাবাদকে ধারণ করে সাম্রাজ্যবাদ ও সামন্তবাদবিরোধী অবস্থানকে ‘অন্তরাশ্রম’ সব সময় শ্রদ্ধার চোখে দেখে। অনুপ সাদি হচ্ছেন অন্তরাশ্রম কর্তৃক পর্যবেক্ষিত এমন একজন ব্যক্তি যিনি গত দুই দশক বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সাম্রাজ্যবাদ ও সামন্তবাদ বিরোধী লড়াই জারি রেখেছেন। আমরা তার জীবন-কর্ম ও প্রকাশিত বই সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণার খোঁজ করেছি এই প্রকাশনায়। যারা অন্তরাশ্রমের এই সংখ্যায় লিখেছেন, তাদের সকলের লেখা পাঠ করলে অনুপ সাদি সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যাবে। এ রকম একটি সংখ্যা প্রকাশ করতে পেরে অন্তরাশ্রম আনন্দিত ও গর্বিত।
