বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচনের প্রচারণা জমে ওঠেছে। সাতজন প্রার্থীর পক্ষে তাদের নেতাকর্মীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে প্রচারে বেশি দেখা যাচ্ছে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমর্থকদের।
এদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি (জাপা) নেই। উভয় দলই নিজেদের প্রতীক নিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে নেই ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী।
দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গী ছিল জাপা। এ দুটি নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনটি সমঝোতার ভিত্তিতে জাপাকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। গত নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের কাছে প্রায় দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন জাপার প্রার্থী।
উপনির্বাচনে জাপাকে ছাড় না দিয়ে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ৪ জুন প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই নৌকার প্রার্থী টি জামান নিকেতার পক্ষে মাঠে নেমেছে দলটি। মহাজোটের আরেক শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ইতোমধ্যে নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে।
টি জামান নিকেতা নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও ভোটারদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ ও মিছিল করছে। তিনি বলেন, পরপর দুটি নির্বাচনে এখানে নৌকার প্রার্থী ছিলেন না। এতে ভোটাররা নাখোশ ছিলেন। তরুণ ভোটাররা হতাশ ছিলেন। এবারের ভোটে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগ যাই বলুক দলটিকে ছাড় দিতে নারাজ জোটের শরিক জাপা। দলটির একক প্রার্থী নূরুল ইসলাম ওমর শক্তভাবে মাঠে আছেন। নূরুল ইসলাম বলেন, আমি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এ কারণে ভোটারদের সমর্থন রয়েছে।
এদিকে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে ছিল জামায়াত। তবে ভোটের মাঠে তেমন একটা ছিল না। আর এবারের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে নেই জোটের এ শরিক দল। বিএনপির প্রার্থী ও দলের সাবেক সংসদ সদস্য জি এম সিরাজ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীরা এসময় তার সঙ্গে থাকেন। তবে সেখানে দেখা যায়নি জামায়াতের কোনো নেতাকর্মীকে। জামায়াতের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার তাদের নেতাকর্মীরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মাহবুব আলম শাহ্ জানান, বগুড়া-৬ আসনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করা হবে। মোট ভোটার তিন লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ জন।
