রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে। আগামী ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা সমানতালে ছুটছেন ভোটারদের দুয়ারে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। প্রতিদিনই কমবেশি গণসংযোগ করছেন মেয়রপ্রার্থীরা।
শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও আওয়ামী লীগের হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া।
নির্বাচন কমিশনের মক ভোটিং নিয়ে মোস্তফার অসন্তোষ:
প্রথমবারের মতো রংপুর সিটিতে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইভিএম-এ ভোটের ধারণা দিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নগরীর পাড়া-মহল্লায় মক ভোটিংয়ের উদ্যোগ কোনো কাজে আসছে না উল্লেখ করে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী ও সদ্যবিদায়ী মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।
শুক্রবার দুপুরে নগরীর ধাপ এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি বলেন, শুরুর দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে ডামি ইভিএমে প্রচারণা চালানোর অনুমতি চাইলে এটাকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে অনুমতি দেয়নি। নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগে পাড়ায়-মহল্লায় মক ভোটিং আয়োজন করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের এই উদ্যোগ কোনো কাজেই আসছে না। পর্যাপ্ত মানুষের কাছে ইভিএম-এর মেসেজ পৌঁছাচ্ছে না। ইভিএমে কীভাবে ভোট দিতে হয় ৯০ ভাগ মানুষই তা জানে না।
জাপার মেয়রপ্রার্থী বলেন, আমি প্রথম থেকেই ধারণা করছিলাম যে তারা এটা করতে পারবে না। তাদের ম্যানপাওয়ার, লজিস্টিক সাপোর্ট এতো নাই যে তারা প্রত্যেকটি মহল্লায় গিয়ে ইভিএম সম্পর্কে মানুষকে জানাবে। পর্যাপ্ত জনবল তাদের নাই। কথা বলে অনেকে কিন্ত বাস্তবতাটা ভিন্ন। তারা বাস্তবতাটা জানে না, যার কারণে অনেক ভোট নষ্ট হবে। অনেকে ভোট দিতে পারবে না, অনেকের ভোট বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে যত ভোট বাতিল হবে, তার ৮০ ভাগ ভোট আমার। এখানে মোট যে ভোট হবে, সেখান থেকে এই ভোটটা কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গেলেও ইভিএমে ভোট দেওয়া নিয়ে তারা জটিলতায় পড়বে। সিসিটিভি ক্যামেরায় মনিটরিং হওয়ায় কারো কাছ থেকে সাহায্য নেওয়ার সুযোগ নেই। জয়ের ব্যাপারে সাধারণ মানুষের আবেগ-উচ্ছ্বাস, ভালোবাসা ও সমর্থন দেখে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান তিনি।
উন্নয়নের কথা বলছেন ডালিয়া:
শুক্রবার ৩২ নাম্বার ওয়ার্ডের মীরগঞ্জ বাজারে গণসংযোগে এসে নৌকার মেয়রপ্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া বলেছেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হলেও বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোতে গত ১০ বছরে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বিস্তৃত এলাকার বাসিন্দারা রাস্তা ঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নানা সেবা থেকে বঞ্চিত। আমি বর্ধিত ওয়ার্ডের জনগণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে মেগা প্রকল্প নিয়ে আসবো।
ডালিয়া বলেন, ভোট চাইতে গিয়ে আমি দেখেছি বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা। সিটি করপোরেশন হয়েও বর্ধিত ওয়ার্ডের জনগণের কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে রংপুর সিটির পরিকল্পিত উন্নয়নের পাশাপাশি বর্ধিত ওয়ার্ডগুলোর জন্য মেগা প্রকল্প নিয়ে এসে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন থেকে শুরু করে সিটির নাগরিক হিসেবে সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবো।
