দৈনিক ইত্তেফাক আমাদের এই বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই প্রথম যাত্রা শুরু করে। ৭০ বছর পেরিয়ে এসে দৈনিকটি আজও তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখে টিকে আছে। আগামীর দিনেও এভাবে টিকে থাকবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা। দৈনিক ইত্তেফাক জনপ্রিয়তা ধরে রেখে যে টিকে আছে, তার একটি অন্যতম কারণ হলো, এই পত্রিকাটি সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে জানে। আর সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে যে জানে, সেটির একটি উদাহরণ—সম্পাদকীয় বিভাগের ‘নতুন প্রজন্মের ভাবনা’ কলাম। এই কলামের মাধ্যমে নতুনদের কথা বলার একটি বিরাট সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুনদের ভাবনা তাদের কলমে উঠে আসছে। সত্যি কথা বলতে কি, এখানে প্রকাশিত নতুন লেখকদের এক-একটি লেখা যেন শুধুই লেখা না, তা তাদের স্বপ্ন হিসেবে পত্রিকায় স্থান পায়।
নিশ্চয়ই অত্যুক্তি হবে না বললে, এই নতুন লেখক বের করে আনতে ‘নতুন প্রজন্মের ভাবনা’ কলাম নামে যে একটি চমৎকার প্ল্যাটফরম দৈনিক ইত্তেফাক সৃষ্টি করেছে, তা সত্যিই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এই নতুন তথা তরুণরাই যে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং এই তরুণদের দ্বারা আগামীর সোনার বাংলা বিনির্মাণ সম্ভব, সেই ভাবনা থেকেই হয়তো এই পত্রিকাটি এমন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতে করে একটি নতুন পাঠক শ্রেণি তৈরি হয়েছে, এই কলামকে কেন্দ্র করে। যে পাঠকশ্রেণি তৈরির সুবাদে দৈনিক ইত্তেফাক আরও বেশি করে পরিচিতি পাচ্ছে মানুষের কাছে। আমার এখনো মনে পড়ে, যেদিন আমার প্রথম লেখা দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়েছিল, সেদিন আমার গোটা পরিবার, আত্মীয়স্বজন, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে বন্ধুরা অনেক খুশি হয়েছিলেন। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা সেদিন আমার আপনজনদের সবার হাতেই ছিল। এবং এখনো পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত থাকে, আমার নতুন লেখা প্রকাশিত হলে।
এরকম উদাহরণ আরও দেওয়া যেতে পারে, যেখানে দৈনিক ইত্তেফাকের সময়ের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়াই প্রকাশ পায়। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার সম্পাদকীয় বিভাগ থেকে প্রকাশিত হয় ‘পাঠকের মতামত’। যেখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ সরাসরি টেলিফোনে কিংবা ইমেইলে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর তাদের মতামত প্রদান করে থাকেন। যে মতামত দৈনিক ইত্তেফাক যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো আয়োজন বলা চলে। কেননা এখানে যেমন কখনো আমাদের চারপাশের কোনো সমস্যা ও সমস্যার প্রেক্ষিতে করণীয় সম্পর্কে নতুন অথচ ভিন্ন ভিন্ন কার্যকরী ভাবনা উঠে আসে। আবার কখনো আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কোনো বিষয় নিয়েও পাঠকের মূল্যবান মতামত চাওয়া হয়। এবং সেই মতামতও পাঠক প্রদান করে। সর্বোপরি এসব মতামত অন্য পাঠকরা জানে ও জেনে উপকৃত হয়।
আমার এলাকার কোনো খবর পত্রিকায় এসেছে কি না, এই জাতীয় চিন্তা যে কোনো পত্রিকা পড়ার ব্যাপারে একজন পাঠক মাত্রই প্রথম করে থাকে। আর এদিক বিবেচনায় দৈনিক ইত্তেফাক যেন অনেকটা ব্যতিক্রম। দৈনিক ইত্তেফাক তার পত্রিকার সঙ্গে সরাসরি পাঠককে সম্পৃক্ত করতে চায়। যার নমুনাই বলা চলে, পাঠক সমাজের জন্য পত্রিকায় প্ল্যাটফরম তৈরি করা তথা পাঠকদের ও নতুনদের লেখা প্রকাশ করা। যে কাজটি দৈনিক ইত্তেফাক অতি সযত্নে করে আসছে দীর্ঘ সময় ধরে।
তবে একটা কথা ঠিক, দৈনিক ইত্তেফাক জনমানুষের পত্রিকা হয়ে থাকতে চায়, কিন্তু পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য কখনো সস্তা চটুল খবর প্রকাশ করে না। আর এই ব্যাপারটি পাঠকের কাছে অত্যন্ত আগ্রহের। তাছাড়া এই পত্রিকার সম্পাদকীয় কলামটি সাধু ভাষায় রচিত হওয়ার কারণে যে কোনো পাঠককেই একটি বারের জন্য হলেও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার কথা স্মরণ করায়। এই পত্রিকার প্রায় খবরেই একটা সৃজনশীল ভাবধারা বজায় থাকে। বিশেষ করে পত্রিকার হেডলাইনে। এছাড়া যে কোনো খবর এ পত্রিকা খবরের মতো করেই প্রকাশ করে। কোনো কিছুতে অতিরঞ্জন করে না। তাই তো যে কোনো একটি খবরের ঠিকঠাক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এখনো মানুষ দৈনিক ইত্তেফাকের দ্বারস্থ হয়।
পরিশেষে বলছি, দৈনিক ইত্তেফাক এখন যেমন আছে, সবসময় যেন তেমনই থাকে। এই পত্রিকা পাঠে পাঠক সর্বদা একটা আলাদা প্রশান্তি খুঁজে পায়। যে প্রশান্তি কোনো মূল্যের বিচারে বিচার করা যাবে না।
লেখক: শিক্ষার্থী, গণবিশ্ববিদ্যালয়
