শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

পাহাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের প্রতীক্ষায় ১৩৩ পরিবার

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:৫১

খাগড়াছড়ির রামগড়ের অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম তৈচাকমাপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে উঠার অপেক্ষায় রয়েছে ১৩৩টি পরিবার।

সু্বিধার পাওয়ার তালিকায় রয়েছের ষাটোর্ধ কমসিং ত্রিপুরা ও তার সহধর্মিণী দিশিরাম ত্রিপুরা। বর্তমানে তারা উঁচু টিলার চূড়ায় বাঁশ-ছনের তৈরি জরাজীর্ণ ছোট একটি মাচাংঘরে অতিকষ্টে বসবাস করছেন। সরকারি খাস টিলাভূমিটিতেই জুমচাষ করে কোনো রকমে দুজনের জীবন চলে। এ অবস্থায় তাদের জরার্জীণ মাচাংঘরের পাশেই নির্মাণ হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সেমিপাকা ঘর। এখন  তারা বুকভরা আনন্দ নিয়ে প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছেন স্বপ্নের এ গৃহে উঠার।

৯০ দশকের ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী চন্দ্র রানী ত্রিপুরা বলেন, এতোদিন পাহাড়ের ঢালুতে বাঁশ-ছনের ঝুপড়িতে স্বামী ও দুই ছেলে নিয়ে বৃষ্টির পানিতে ভিজে, রোদে পুড়ে আর শীতে কনকনে ঠান্ডার মধ্যে দিনাতিপাত করছি। তবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের সেমি পাকা ঘরটি কষ্ট দূর করে দেবে।

রামগড় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. নজরুল ইসলাম জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় চর্তুথ পর্যায়ে রামগড়ে এবার ১৩৩ পরিবার ঘর ও জমি পাবেন। এর মধ্যে রামগড় ইউনিয়নে ৩৭টি, পাতাছড়ায় ৭৩ ও রামগড় পৌরসভায় ২৩টি পরিবার রয়েছে। ১৩৩টি ঘরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে।

তিনি জানান, এর আগে ১ম, ২য় ও ৩য় পর্যায়ে ৩৪৩টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবার ঘর পেয়ে বসবাস করছেন।

রামগড় উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত বলেন, সরেজমিনে যাচাই-বাচাই করে প্রকৃত গৃহ ও ভূমিহীন পরিবার শনাক্ত করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ও জমি দেওয়া হচ্ছে। উপযুক্ততার ভিত্তিতে এখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি সকলেই সমানভাবে এ সুবিধা পাচ্ছেন। গৃহ নির্মাণে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিদ্যুবিহীন দুর্গম পাহাড়ি গ্রামের আশ্রয়ণের ঘরগুলোতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ প্রকল্পের আওতায় সোলার প্যানেল দেওয়া হচ্ছে। চর্তুথ পর্যায়ের ১৩৩টি ঘরের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সুবিধাভোগী পরিবারদের মাঝে হস্তান্তর করবেন। 

ইত্তেফাক/আরএজে