মেঘনা নদীতে দুই জাহাজের সংঘর্ষে রোববারে ডুবে যায় তেলবাহী জাহাজ সাগর নন্দিনী। ঘটনার ২ দিন পার হলেও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ভোলার মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া এই জাহাজটি। ডুবন্ত জাহাজ থেকে মেঘনায় ছড়িয়ে পড়ছে জ্বালানি তেল। পানির ওপর থকথক করছে তেলের আস্তর। মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করতে পারছে না জেলেরা। তারা তেলের ঝাঁজে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মেঘনার তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা আজ দুইদিন যাবত মেঘনার পানি ব্যবহার করছেন না।
ঘটনার পর থেকে মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি বিআইডব্লিউটিএ, একটি পেট্রোবাংলা অপরটি গঠন করেছে পদ্মা ওয়েল কোম্পানি। এ তিন তদন্ত কমিটি নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করতে আসা জেলে মো. রুবেল জানান, দুইদিন ধরে তেলের ঝাঁজের কারণে তিনি মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে তাকে দৌলতখান উপজেলার পাশে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করতে হচ্ছে।
তুলাতলি মেঘনা নদীর তীরের বাসিন্দা মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, তিনি সব সময়ই মেঘনা নদীতে গোসল করতেন। কিন্তু আজ দুইদিন ধরে তিনি নদীতে গোসল করতে পারছেন না।
বিআইডব্লিউটিএর নৌ-সংরক্ষণ পরিচালক ও পরিচালন বিভাগের মো. শাহাজাহান জানান, চাঁদপুর থেকে তাদের একটি বার্জ্য ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। সেটি ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে।
রোববার ভোররাতে ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি মেঘনা নদীতে ঘন কুয়াশার কারণে তেলবাহী জাহাজ ‘সাগর নন্দিনী-২’ এর সঙ্গে নোঙর করা আরেকটি জাহাজের সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে সাগর নন্দিনী জাহাজটির পিছনের তলা ফেটে তা পানিতে নিমজ্জিত হয়। জাহাজে থাকা মাষ্টারসহ ১৩ নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে কোষ্টগার্ড। মেঘনার পানিতে ভেসে যায় ১০ লাখ লিটার তেল। যার বাজার মূল্য প্রায় ৯ কোটি টাকার উপরে।
