প্রতিবেশী দেশের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দরুন শুভেচ্ছাস্বরূপ, সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) মেঘালয়ের দক্ষিণ গারো পাহাড়ের আন্তর্জাতিক সীমান্তে বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ (বিজিবি) এর কাছে এক বাংলাদেশি নাবালক ছেলেকে হস্তান্তর করে।
ছেলেটির নাম শহিদ (১৫ বছর) এবং সে বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার অন্তর্গত গোরাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
বিএসএফ জানায়, ছেলেটি গত রবিবার নাগাদ অসাবধানতাবশত আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল। উল্লেখ্য, এই আন্তর্জাতিক সীমানা হলো ৪০৯৬ কিলোমিটারের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। এটি বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত। এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ২২১৭ কি.মি.।
বিএসএফ-এর ৪৩ ব্যাটালিয়নের অধীনে বিএসএফ ফাঁড়ি রোংড়ার একটি টহল দল ছেলেটিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে ঘোরাঘুরি করার সময় বাধা দেয়। এ সময় ছেলেটি জানায় যে, সে আন্তর্জাতিক সীমানা সম্পর্কে জানতো না এবং অনিচ্ছাকৃতভাবেই সে ভারতীয় সীমানায় চলে এসেছে।
বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, বিএসএফ-এর এই কার্যক্রমের প্রশংসা জানিয়েছে।
প্রতি বছরই, বিএসএফ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষকে আটক করে তাদের গ্রেফতার না করেই বিজিবি-এর কাছে ফেরত দিয়ে দেয়।
এই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর, বিএসএফ-এর টহলরত সৈন্যরা পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্তে ১৩ জন মহিলা সহ অন্তত ১৯ জন বাংলাদেশী নাগরিকদের আটক করে।
বিএসএফ-এর তথ্যানুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর দক্ষিণবঙ্গে প্রায় ১১,৭৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল। তার মধ্যে অন্তত ১,১৭৮ জনকে গ্রেফতার না করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২০১৭ সালে দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত দ্বারা ৩৭৮ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয় বিএসএফ। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২৯৭ জনে। ২০১৯ সালে আরো কমে দাঁড়ায় মাত্র ২২ জনে। তবে এরপর থেকে এ সংখ্যায় ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
২০২০ সালে ৫১ জনকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২১ সালে ১৩৫ জন। ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এ সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ২৯৫ জনে। বিএসএফ আশা করছে বছরের শেষ অব্দি এ সংখ্যা ৩০০ জন হবে, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ।
