উত্তরে জেঁকে বসেছে শীত, ঘনকুয়াশায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২৯

দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলে শীত জেঁকে বসেছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় দিন দিন বাড়ছে শীতের প্রকোপ। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় হিমেল বাতাস সঙ্গে ঘন কুয়াশা। এতে করে দিনের বেলায়ও যানবাহনে হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে চারিদিক। সকাল ১০টার দিকে সূর্য দেখা গেলেও বিকাল ৪টা বাজতে না বাজতেই ফের হারিয়ে যায়।

এদিকে ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের হার বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষেরা বেশি পরিমাণে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে। জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বুধবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ। জেলায় চলতি ডিসেম্বর মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করবে। দিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় রাস্তায় কমেছে মানুষের চলাচল। উষ্ণতার আশায় কেউবা আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করে নিচ্ছেন আবার কেউ ভিড় জমাচ্ছেন চায়ের দোকানে। দূরপাল্লার গাড়িগুলো চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। 

শহরের রামনগর এলাকার ভ্যানচালক শামীম হোসেন বলেন, গত এক সপ্তাহ যে শীত শুরু হয়েছে তাতে বেলা ১১টার পর মানুষ বাড়ি থেকে বের হয়ে সন্ধ্যা হলে বাসায় ফিরে। আগে দিনে চার থেকে ৫০০ টাকা ইনকাম হত। শীত বেশি হওয়ায় এখন দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। কৃৃষক কাদের আলী বলেন, ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে খেতে কাজ করাই যাচ্ছে না। অনেক বেলায় কাজে গেলেও বিকেল হতে না হতেই বাসায় ফিরতে হচ্ছে। অটোচালক রনজিত্ বলেন, শীতের কারণে শহরে লোকজনের চলাচল অনেক কমে গেছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এইচ এম বোরহান-উল-ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি। হঠাত্ করেই দিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

  • ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দীর্ঘ লাইন

কালিহাতী ( টাঙ্গাইল ) সংবাদদাতা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে ধীরগতিতে চলছে সকল প্রকার যানবাহন। কালিহাতী উপজেলার হাতিয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার রাস্তায় বুধবার ভোররাত থেকে থেমে থেমে চলছে সব ধরনের যানবাহন। দুপুর ১২টার সময় সরেজমিন দেখা যায়, মহাসড়কের দুই পাশে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘ সময় আটকা থাকার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। পরিবহন চালকরা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তার সামনে কিছু দেখা যায় না। এছাড়া সেতুতে বেশ কয়েকটি টোলবুথ বন্ধ থাকার কারণেও সড়কে পরিবহন চাপ বেড়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান মাসুদ বাপ্পী বলেন, ঘন কুয়াশার কারণে ভোরে দৃষ্টিসীমা ৪০ মিটারের কম হওয়ায় সেতুর চারটি টোলবুথ বন্ধ রাখা হয়েছে। এই কারণে এই যানজট। কুয়াশা কেটে গেলে টোলবুথ খুলে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

 

ইত্তেফাক/ইআ