চলতি মাসে চাঁদা আদায় ২০ লাখ টাকার বেশি

চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ কোম্পানীগঞ্জের পরিবহন মালিক-চালক

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:০০

কুমিল্লার কোম্পানীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের জেলার মুরাদনগর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই বাসস্ট্যান্ড এখন যেন বিভিন্ন গণপরিবহনের মালিক, চালক ও শ্রমিকদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বাসস্ট্যান্ড ঘিরে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট গণপরিবহনে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুই ইউপি চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় ঐ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে গাড়ির চালকদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ গাড়ির চালক-শ্রমিকদের। চাঁদা না দিলে সেখানে তাদেরকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় এবং তারা চাঁদাবাজদের দাপটে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানান। মহাসড়কে এমন চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে যেসব পরিবহন দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত ও যাত্রাবিরতি করে সেসব বাসের প্রতিটি থেকেই চাঁদা উত্তোলন করছে চক্রটি। মাসে এই চাঁদার মোট অঙ্ক অন্তত ২০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।  

তারা জানান, প্রতিদিন সেখানে গণপরিবহনের ডজনাধিক সার্ভিসের বাস ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ও জেলার আঞ্চলিক সড়কে যাতায়াত করে। ভুক্তভোগী চালক ও শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ইউপি নির্বাচনের পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং অতিরিক্ত চাঁদা নির্ধারণ করে আদায় শুরু করে। এখানে পরিবহন চাঁদাবাজদের দাপটে মালিক ও শ্রমিকরা দিশাহারা, হয়রানির ভয়ে প্রতিবাদ করেন না। কোম্পানীগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী তিশা গোল্ডেন পরিবহনের প্রতিটি বাস থেকে চক্রটি ২০০ টাকা করে চাঁদা নেয়।

এই স্ট্যান্ড থেকে কুমিল্লাগামী ফারজানা পরিবহনের বাস থেকে ৭০ টাকা ও নিউ জনতা পরিবহন থেকে ১৩০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে চলাচল করা বেশ কয়েকটি পরিবহনের প্রতি গাড়ি থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জ স্ট্যান্ড থেকে চলাচল করা নিউ জনতা পরিবহনের বাস মালিক ইকবাল হোসেন ও জাহাঙ্গীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই ইউপি চেয়ারম্যানের লোকেরা আমাদের ৫৮টি বাস থেকে প্রতিদিনই চাঁদা নিচ্ছে।’

তিশা গোল্ডেন পরিবহনের আরেক বাস মালিক খায়ের মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের একটি বাস প্রতিবার ছাড়ার সময় তাদের ২০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তাদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে আছি।’ তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন মুরাদনগর উপজেলার ১৪ নম্বর পূর্ব নবীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আবুল খায়ের ও ১৫ নম্বর পশ্চিম নবীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভিপি জাকির হোসেন। তারা গণপরিবহনে কোনো প্রকার চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে সম্প্রতি সাংবাদিক সম্মেলন করে তারা বলেন, একটি মহল তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ধরনের অভিযোগ এনে অপপ্রচার করছে। এসময় তারা বাসস্ট্যান্ড ঘিরে প্রকৃত চাঁদাবাজদের ধরে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানান। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিযূষ চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে কোম্পানীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যে কেউ গণপরিবহন থেকে চাঁদা আদায় করলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম