বগুড়া আজিজুল হক কলেজ

৫ কোটি টাকার ছাত্রী হল চার বছরেও চালু হয়নি

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:০০

বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে ছাত্রীদের নবনির্মিত ১০০ আসনের ছাত্রী হলের কাজ শেষ হলেও চার বছরেও তা চালু হয়নি। ২০১৮ সালে ৫ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হল কোনো কাজে আসছে না। কারণ, সেখানে ছাত্রীরা থাকেন না। সেখানে সংসার পেতেছেন কলেজের কর্মচারীরা।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলা সদরে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প থেকে আজিজুল হক কলেজে ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনে ১০০ আসনের নতুন আরও একটি হল নির্মাণের জন্য ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। হলটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৮ সালে। সেই সময় ছাত্রীদের ওঠার ব্যবস্থা না করে হলটি পঞ্চম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। এজন্য ১ কোটি ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের জুনে সেই কাজ শেষ হয়। এরপর হলের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয় আরও ২৯ লাখ টাকা। সেই কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের অক্টোবরে। এরপর ২০২০ সালে বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণে বরাদ্দ করা হয় আরও ১১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এই হলের পেছনে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আর খরচ হয়েছে ৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। বছরের পর বছর এত অর্থ খরচ করেও ছাত্রীরা এর কোনো সুফল এখনো পায়নি।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলী বলেন, হলের নির্মাণকাজ বুঝিয়ে দিয়ে সামান্য কিছু আসবাব দেওয়া হলেও ছাত্রীদের ডাইনিংরুমে ডাইনিং টেবিল ও কোনো হাঁড়িপাতিল নেই। থালাবাসনসহ তৈজসপত্র সরবরাহ করা হয়নি। গ্যাসের সংযোগ নেই। এছাড়া মাঠও ভরাট হয়নি। বৃষ্টি হলেই হলের সামনের জায়গা ডুবে থাকে। এ কারণে নতুন ছাত্রী হল চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে অধ্যক্ষের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন। তিনি বলেন, নির্মাণকাজ অসমাপ্ত নেই। কলেজ প্রশাসন ইচ্ছা করলে অনেক আগেই ছাত্রী হল চালু করতে পারত।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নতুন হলের কক্ষ প্রস্তুত আছে, নেই ছাত্রীরা। ছাত্রী হলের একাধিক কক্ষে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন একাধিক কর্মচারী। যদিও হলে আসন নেই বলে ভোগান্তিতে রয়েছেন ছাত্রীরা। এই কলেজের ছাত্রী জেইন গুলশান বলেন, বেগম রোকেয়া হলে সিট না পেয়ে পাশে কামারগাড়ী এলাকার একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এতে থাকা-খাওয়াসহ তার খরচ হয় গড়ে ৪ হাজার টাকা। আবাসিক হলে থাকতে পারলে এই খরচ দেড় হাজার টাকায় নেমে আসতো।

সরকারি আজিজুল হক কলেজে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স ছাড়াও ২৩টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু রয়েছে। এই কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি। ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের জেরে ১৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে কলেজের ছাত্রদের তিনটি আবাসিক হল। এতে আবাসন সংকটে রয়েছেন কলেজের ছাত্ররাও। উচ্চমাধ্যমিকের ফলে এই কলেজ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে বরাবরই সুনাম ধরে রেখেছে। স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তরের ফলেও সুনাম আছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পারফরম্যান্স র‌্যাংকিং’-এ ৬৮৫টি কলেজের মধ্যে এই কলেজের অবস্থান বর্তমানে সারা দেশে তৃতীয়।

ইত্তেফাক/এমএএম